• শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ফিরছে টয়লেট যুক্ত মেমু ট্রেন, আজ থেকে নিয়মিত চলবে ৯টি ট্রেন খুশি যাত্রীরা
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, লালবাগ: অবশেষে প্রায় দেড় বছরের প্রতীক্ষার অবসান। পূর্ব রেলের শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ফিরতে চলেছে টয়লেটযুক্ত মেমু ট্রেন। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে এই শাখায় নিয়মিত ৯টি মেমু ট্রেন চলাচল করবে। মঙ্গলবার পূর্ব রেলের তরফে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ৯টি মেমু ট্রেন চলবে সেগুলির মধ্যে রয়েছে ৩টি শিয়ালদহ-লালগোলা, ৩টি লালগোলা-শিয়ালদহ, একটি রানাঘাট-শিয়ালদহ, একটি রানাঘাট-লালগোলা এবং একটি শিয়ালদহ-রানাঘাট। মেমু ট্রেন চালু হচ্ছে এই খবর জানাজানি হতেই স্বস্তি ফিরেছে জেলাবাসীর মধ্যে। 

    পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় টয়লেট যুক্ত মেমু ট্রেন চালু হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যে লালগোলা-কলকাতা আরও একটি মেমু ট্রেন চালু করা হবে। 

    প্রায় দেড় বছর আগে কুম্ভ মেলা উপলক্ষ্যে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় চলাচল করা মেমু ট্রেনগুলি তুলে নেওয়া হয়। তার পরিবর্তে দেওয়া হয় টয়লেট বিহীন ইএমইউ ট্রেন। এর ফলে লালগোলা-শিয়ালদহ ২২৭ কিমির দূরপাল্লার যাত্রা পথে মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের বদলে জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। শিশু, বয়স্ক ও মহিলাদের এই  যন্ত্রণার কথা উপলব্ধি করে জেলার একাধিক রেল নিত্য যাত্রী সংগঠন যৌথভাবে মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স ফোরাম গঠন করে দাবি দাওয়ার পাশাপাশি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। লাগাতার ওই আন্দোলনের ফলে জেলায় একাধিকবার রেল কর্তাদের ছুটে আসতে বাধ্য করেন আন্দোলনকারীরা। অবশেষে, পূর্ব রেলের তরফে মঙ্গলবার বিজ্ঞতি প্রকাশ করে বলা হয় বৃহস্পতিবার থেকে এই শাখায় টয়লেট যুক্ত ৯টি মেমু ট্রেন চলাচল শুরু করবে। 

    ফোরামের সম্পাদক আজমল হক বলেন, টয়লেট যুক্ত মেমু ট্রেন তুলে নেওয়ায় নিত্য থেকে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। মেমু ট্রেন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংগঠনের তরফে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন ও প্রতিরোধের মুখে পড়ে রেল গত বছর ডিসেম্বর মাসে এক জোড়া মেমু ট্রেন চালু করে। কিন্তু, এক সপ্তাহ পরেই ট্রেন দু’টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অবশেষে রেল বৃহস্পতিবার থেকে এই শাখায় ৯টি টয়লেটযুক্ত মেমু ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেলের এই সিদ্ধান্তকে সংগঠনের তরফ স্বাগত জানাচ্ছি।

    লালগোলার বাসিন্দা সুরজ মণ্ডল বলেন, চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ কলকাতায় যায়। মেমু ট্রেন তুলে নেওয়ার পর থেকে এই দীর্ঘ যাত্রা পথে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছিল। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা বেশি হচ্ছিল। মেমু ট্রেন চালু হলে সমস্যা মিটবে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভগবানগোলার বাসিন্দা মোর্তাজা শেখ চিকিৎসার জন্য বাবাকে নিয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন। মোর্তাজা বলেন, পলাশী পার হওয়ার পর বাবার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু, ট্রেনে ট্রয়লেট না থাকায় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। কৃষ্ণনগর পৌঁছতেই বাবাকে টয়লেটে নিয়ে যাই। টয়লেট যুক্ত ট্রেন চললে সাধারণ মানুষ স্বস্তির যাত্রা করতে পারবে।
  • Link to this news (বর্তমান)