রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়ের আদলে সেজে উঠছে বিশ্বভারতীর উত্তরায়ণের বাড়িগুলি
বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
সুকমল দালাল, বোলপুর: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে উত্তরায়ণ কমপ্লেক্সের পাঁচটি ঐতিহ্যবাহী বাড়ি নতুনভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের সময়কার আসবাবপত্র, গৃহসজ্জা, দেওয়ালের নকশা, ঘরের বিন্যাস সবকিছুকেই পুরনো দিনের আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে জোরকদমে। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের একটি দল পুরনো আলোকচিত্র, নকশা ও নথি অনুসরণ করে এই পুনর্গঠনের কাজ করছে। ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, রবীন্দ্রনাথের বাড়ির ভিতর সম্পর্কে মানুষের আলাদা কৌতুহল রয়েছে। সেই সময়ে কীরকম আসবাবপত্র বা গৃহসজ্জা ছিল, তা পুরনো দিনের আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর যেমন ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, তেমনই পর্যটকরাও এই অভিজ্ঞতায় খুশি হবেন। ভবিষ্যতে গবেষণার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।
বিশ্বভারতীর কলাভবন ও রবীন্দ্রভবনের যৌথ উদ্যোগে এই সংস্কারের কাজ চলছে। পুরনো দিনের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিটি ঘর সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। যাতে দর্শনার্থীরা কবিগুরুর সময়কার পরিবেশ অনুভব করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশাবাদী, আগামী দেড়-দু’মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। গরমের ছুটির পর পর্যটকদের জন্য বাড়িগুলি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পুজোর ছুটির পর তা সম্পূর্ণ করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বভারতী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে শান্তিনিকেতনে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। সেই সময়কেই কাজে লাগিয়ে দ্রুত সংস্কারকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কারণে পর্যটকদের উত্তরায়ণের বাড়িগুলির ভিতরে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। তবে কাজ শেষ হলে আগের মতোই প্রতিটি বাড়ির ভিতরে ঢুকে ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা।
উত্তরায়ণ কমপ্লেক্সে অবস্থিত উদয়ন, কোণার্ক, শ্যামলী, পুনশ্চ ও উদীচী-এই বাড়িগুলিই রবীন্দ্রনাথের জীবনের বিভিন্ন সময়ের স্মৃতি বহন করে চলেছে। বিশেষ করে মাটির দেওয়াল ও স্বতন্ত্র স্থাপত্যরীতির জন্য শ্যামলী বাড়ির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। অতীতে এই বাড়ির সংরক্ষণ ও পুনর্গঠন নিয়েও একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবারও সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সংস্কারের কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।
শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ ‘হেরিটেজ ওয়াক’। রবীন্দ্রভবনের উদ্যোগে এই পরিক্রমায় উত্তরায়ণ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বাড়ি, কবিগুরুর ব্যবহার করা সামগ্রী, তাঁর জীবনযাপন ও কর্মপরিসর সম্পর্কে দর্শনার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্বভারতীর বিভিন্ন প্রান্তে শিল্পী সুরেন কর এবং নন্দলাল বসুর শিল্পভাবনার আদলে একাধিক তোরণও নির্মাণ করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী নকশা ও শিল্পরীতিতে তৈরি এই তোরণগুলিকেও ভবিষ্যতের হেরিটেজ ওয়াকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এর ফলে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য ও শিল্পচেতনার সঙ্গে পর্যটকদের আরও নিবিড় পরিচয় ঘটবে।