উঠল তৃণমূল জমানার নিষেধাজ্ঞা ভিনরাজ্যে আলু রপ্তানিতে সায় রাজ্যের
বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ২০২৩ ও ২০২৪ সালে রাজ্য সরকার ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে কার্যত অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। অন্য রাজ্যে আলু নিয়ে গেলেই পুলিশ ট্রাক আটক করত। তার খেসারত দিতে হয়েছে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের। যেসব রাজ্যে বাংলার আলুর বাজার ছিল, সেই সব রাজ্য বিকল্প চাষ বা অন্য ব্যবস্থা করে। যেমন ওড়িশা আলু চাষের এলাকা বাড়িয়ে দেয়। অন্ধপ্রদেশের ব্যবসায়ীরাও সেরাজ্যের বাজার দখল করে। একইভাবে অসম, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডও অন্য রাজ্য থেকে আলু আনে। ভিনরাজ্যে আলু না যাওয়ায় চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েন। প্রত্যাশা মতো তাঁরা আলুর দাম পাননি। নতুন সরকার ভিনরাজ্যে আলু নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় খুশি চাষিরা।
তাঁরা বলছেন, ভিনরাজ্যে নতুন করে বাজার দখল করতে বেগ পেতে হবে। তবে, ধীরে ধীরে আবার পুরনো বাজার পাওয়া যাবে। আগে অন্য রাজ্যের সীমানায় পুলিশের জুলুমবাজি ছিল। তারা বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে টাকা আদায় করত বলে অভিযোগ। আলু চাষি সুজয় দাস বলেন, এবছর আলুর ব্যাপক ফলন হওয়ায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ওড়িশা বা ঝাড়খণ্ডেও আলুর তেমন চাহিদা নেই। কারণ তারা আগেই অন্য রাজ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছে। বাংলার আলু না হলেও তাদের চলবে। আর এক চাষি বলেন, দু’বছর অন্য রাজ্যে আলু না পাঠাতে দিয়ে সরকার ভুল করেছে। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চাষিরাও আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। সেবার অবশ্য সরকার দাবি করে, ওই দুই বছর আলুর ফলন কম হয়েছিল। ভিনরাজ্যে আলু চলে গেলে আমজনতাকে বেশি দাম দিয়ে তা কিনতে হত। সেই কারণে বাধ্য হয়ে অঘোষিত ভাবে কিছু সময়ের জন্য বাইরের রাজ্যে আলু পাঠানো বন্ধ হয়েছিল। তবে বাইরের রাজ্যে সম্পুর্ণ আলু যাওয়া বন্ধ ছিল তেমনটা নয়।
চাষিরা বলেন, শুধু ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ছাড়পত্র দিলেই হবে না, সারের দাম কমানোর ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নিতে হবে। ১০-২৬-২৬ সারের দাম আকাশ ছোঁয়া। আলু চাষের জন্য এই সার সব থেকে বেশি দরকার হয়। অথচ এই সারের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। সারের সঙ্গে অনুখাদ্য কিনতেও চাষিরা বাধ্য হচ্ছেন। এই বিষয়টির দিকে সরকার নজর দিলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
প্রসঙ্গ, চাষিরা আলুর দাম না পাওয়ায় এবারের ভোট প্রচারে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৎকালীন রাজ্য সরকারকে তোপ দাগে। তারা ক্ষমতায় এলে চাষিদের পাশে দাঁড়াবে বলে জানিয়ে দেয়। সেই মতই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাষিদের জন্য একাধিক ঘোষণা করেছেন। তাতে চাষিরা আশার আলো দেখছেন।