চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের চাকরি যাচ্ছে না: রাজ্য, পুরসভার সব পেমেন্ট আটকানোর নির্দেশ
বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিভিক ভলান্টিয়ার সহ রাজ্যে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষ। রাজ্যের পুরসভাগুলির অধীনেও পূর্বতন সরকারের আমলে হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ হয়েছে। পালাবদলের পর তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? আদৌ কি তাঁদের চাকরি থাকবে? এসব নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যেই ‘কোনো অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না’ বলে জানিয়ে দিল রাজ্য সরকার। এদিন পুরসভাগুলিতে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ‘আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এবিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। রাতারাতি কারও পেটে লাথি মারা হবে না। কোনো অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। সম্পূর্ণ বিষয়টিই ধৈর্যের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।’
রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেল বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। এদিন মন্ত্রী মূলত পুরসভাগুলির চুক্তিভিত্তিক কর্মী প্রসঙ্গে রাজ্যের অবস্থানের কথা জানালেও, একই নীতি অন্যান্য দপ্তরের ক্ষেত্রেও বলবৎ থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সরকারে এসেই অবসরের পর পুনর্বহাল হওয়া আধিকারিক-কর্মীদের পাকাপাকিভাবে ছুটি দেওয়ার পথে হেঁটেছে রাজ্য। আবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে দ্রুত শূন্যপদ পূরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়েও আগামী দিনে রাজ্যের কিছু ইতিবাচক পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেই মত অভিজ্ঞ আমলাদের।
একইসঙ্গে, সমস্ত পুরসভার সব ধরনের পেমেন্ট আপাতত স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এখনও যে বিল আটকে আছে, সেই সমস্ত হয়ে যাওয়া কাজের তথ্য এবং নথি আসবে পুরদপ্তরে। তা নিজে খতিয়ে দেখবেন মন্ত্রী। যাচাইয়ের পর সবদিক থেকে সন্তুষ্ট হলে তবে পেমেন্ট দেওয়া হবে। অন্যদিকে, পুরসভাগুলিতে সরাসরি মন্ত্রীর অফিস থেকে নজরদারি চালানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ১২৮টি পুরসভার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা যাবে পুরমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের ১২৮টি পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার এবং ফিনান্সিয়াল অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুরমন্ত্রী। সেখানে দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন অগ্নিমিত্রা। মানুষের প্রতি নতুন সরকারের দায়বদ্ধতা বোঝা গিয়েছে বর্ধমানের একটি ঘটনায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি এলাকায় স্ট্রিট লাইট নিভে যাওয়ার খবর আসে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তিনি এই সংক্রান্ত একটি এসএমএস পাঠান পুরমন্ত্রীকে। তিনি তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে রেকর্ড সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করেন। ঘটনার রিপোর্টও তলব করেন তিনি।