• মহিলা-শিশুদের উপর অপরাধের মামলায় গাফিলতি বরদাস্ত নয়, কড়া পুলিশ কমিশনার
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নতুন সরকারের আমলে অপরাধ দমনে কলকাতার ‘নিরাপদতম’ রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখতে বদ্ধ পরিকর লালবাজার। নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠকে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক কড়া পদক্ষেপ নিলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। বাহিনীর উদ্দেশে ২৮ দফা নির্দেশিকা দিয়েছেন সিপি। তাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে মহিলা ও শিশুদের উপর অপরাধ দমনে। 

    সিপির সাফ নিদান, মহিলাদের উপর অপরাধের অভিযোগ পেলে কোনোরকম বিলম্ব করা যাবে না। দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি থানার অফিসার ইন চার্জের তত্ত্বাবধানে সেই তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে। কোনো গাফিলতি হলে দায় নিতে হবে ওসিকে। শুধু তাই নয়, শিশু সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে গাফিলতি করা যাবে না। কোনো শিশুকে নির্যাতন বা যৌন হয়রানি করা হলে তদন্ত সরাসরি চালাতে হবে ডেপুটি কমিশনার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ও অফিসার ইন চার্জকে। মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ সিপির। 

    একইসঙ্গে, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বৈধ অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত এফআইআর করতে হবে। কোনোরকম পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন সিপি। থানায় ইনস্টল করা সিসিটিভি ক্যামেরা সর্বদা সচল রাখতে হবে। অচল সিসিটিভি ক্যামেরা অবিলম্বে মেরামত করতে হবে। প্রতিটি থানায় সাপ্তাহিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা করতে হবে। থানা পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাবকে কোনোভাবে বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি ক্রাইম বৈঠকের আগে, প্রত্যেক ডিভিশনের ডিসি ও থানার গুন্ডাদমনকারী অফিসারদের  অপরাধ-সম্পর্কিত একটি উপস্থাপনা প্রস্তুত করতে হবে।

    পাশাপাশি, নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা রুখতেও কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। বাহিনীর উদ্দেশে লালবাজারের নির্দেশ, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে মোটর সাইকেলে টহল অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করতে হবে অবৈধ অস্ত্র। বোমা কিংবা বিস্ফোরক উদ্ধারের অভিযান জোরদার করতে হবে। সিন্ডিকেট সংক্রান্ত কোনো মামলা রুজু হলে, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চালাতে হবে। কঠোর নজরদারি চালাতে হবে গোরু পাচার বন্ধ করতে। সকল থানায় বিট পুলিশিং ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে হবে। থানার জেনারেল ডায়েরি এবং সেরেস্তা রেজিস্টারের রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে তত্ত্বাবধান করতে হবে ওসিকে। একইসঙ্গে, যাতে থানায় মামলার কোনো ওয়ারেন্ট ‘পেন্ডিং’ না থাকে, তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন পুলিশ কমিশনার। ভিআইপি ডিউটির ব্যবস্থাপনার সময় সতর্কতার অভাবকে রেয়াত করবে না কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর। শহরের অপরাধ দমনের পাশাপাশি পথ নিরাপত্তাতেও জোর দিয়েছেন সিপি। বাইকচালকদের হেলমেট পরার বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)