• মাথা মুড়িয়ে, বিবস্ত্র করে দমদমে মারধর তৃণমূলের কর্মীকে, নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য ৩ বিজেপি নেতার
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দমদম রোডে মাছ বিক্রি করছিলেন এক ব্যবসায়ী। তিনি মধুগড়ের সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। ভরা বাজারে তাঁকে মারধর করার পর তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির তিন কর্মীর বিরুদ্ধে। এরপর মাথার অর্ধেক ন্যাড়া করে পোড়া মোবিল মাখিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, তাঁর শরীরের জামা-কাপড়ও খুলে নেওয়া হয়। বুধবার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দমদমে। নাগেরবাজার থানায় বিজেপির ওই কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। 

    দমদম পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মধুগড় এলাকার বাসিন্দা শ্যামল মণ্ডল। তিনি মাছ বিক্রেতা। ৫২ বছর বয়সি এই প্রৌঢ় ২০১১ সালের আগে সিপিএম করতেন। পরে তৃণমূলে যোগ দেন। এলাকায় তিনি তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসাবে পরিচিত। বুধবার সকালে অন্যান্য দিনের মতো দমদম স্টেশন লাগোয়া এক বেসরকারি স্কুলের সামনে মাছ বিক্রি করছিলেন তিনি। অভিযোগ, সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিজেপির তিন কর্মী বাইকে করে সেখানে হাজির হয়ে তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করে এবং দোকান লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এরপর তাঁকে বাইকে চাপিয়ে মধুগড় বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে বাজার লাগোয়া গলিতে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, অর্ধেক মাথা ন্যাড়া করার পাশাপাশি গোঁফের অর্ধেকও কেটে দেওয়া হয়। নিম্নাঙ্গের অন্তর্বাস ছাড়া তাঁর শরীরের সমস্ত পোশাক খুলে নেয় অভিযুক্তরা। শেষে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পোড়া মোবিল মাখিয়ে ফেলে রাখে ওই মাছ বিক্রেতাকে। কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সেলুনে নিয়ে গিয়ে তাঁর মাথার অর্ধেক চুল ও গোঁফ কাটা হয়।

    আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীর ছেলে সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, কয়েকদিন আগে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাবার বচসা হয়েছিল। তাই বিজেপির মণ্ডলস্তরের এক নেতা সহ তিনজন বাবাকে তুলে গিয়ে পৈশাচিক অত্যাচার করেছে। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি আমরা। আশা করছি, পুলিশ পদক্ষেপ করবে। তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর প্রবীর পাল বলেন, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বলছে, কোথাও কোনো হামলা হবে না। কেউ আইন হাতে তুলবে না। অথচ দেখা যাচ্ছে, দমদমের এই ঘটনায় বিজেপি কর্মীরাই জড়িত। শ্যামলবাবুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারত। তা না করে এমন বর্বর অত্যাচার করা হল কেন?

    দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি জানিয়েছেন, খোঁজ নিয়ে মন্তব্য করব। বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, পুলিশ আইনানুগ পদক্ষেপ করবে। কোনো অন্যায় কাজ বরদাস্ত করা হবে না। ফল প্রকাশের দিন দুপুরের পর বিজেপি হওয়া লোকজনই ওই তৃণমূল কর্মীর উপর অত্যাচার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই।
  • Link to this news (বর্তমান)