নেই বিল্ডিং প্ল্যান, তপসিয়ার সেই কারখানা ভাঙল প্রশাসন, গ্রেপ্তার মালিক সহ ২
বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেই পুরসভার অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান। ছিল না নিরাপত্তার নিশ্চিত করার জন্য কোনো পরিকাঠামো। যাবতীয় বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তপসিয়ার বহুতলে রমরমিয়ে চলছিল চামড়ার সামগ্রী তৈরির কারখানা। বহুতলের দোতলাজুড়ে ছিল সেই কারখানা। মঙ্গলবার সেখানেই ভয়াবহ আগুন লাগে। পুড়ে, দমবন্ধ হয়ে মারা যান দুই কর্মী। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনজন। অবৈধ কারবার চালানোর অভিযোগে বুধবার রাজ্য সরকারের নির্দেশে সেই কারখানার দুই মালিককে গ্রেপ্তার করে তিলজলা থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম নিসার জাফর ও মহম্মদ শামিম। তাঁদের এদিনই আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে কড়া মনোভাব স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনই ওই বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর নির্দেশে বিকাল থেকে অবৈধ বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ২টো নাগাদ জি জে খান রোডের ৫০/১বি/১ ঠিকানার বহুতলের দোতলায় আগুন লাগে। সেখানে ‘ডেলটা লেদার্স’ নামে একটি কোম্পানি চামড়ার সামগ্রী তৈরি করত। দুপুরে টিফিনের বিরতিতে বেশিরভাগ কর্মচারী নীচে নেমে যান। তখনই আগুন লাগে। দোতলায় ছিলেন পাঁচ কর্মী। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা আশ্রয় নেন ওই তলে থাকা শৌচাগারে। সেখানেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। আরও দুই কর্মী প্রায় ৭০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়ে ভেন্টিলেশনে। আরেক কর্মীর চিকিৎসা চলছে বার্ন ইউনিটে। ঘটনার পরই নড়চড়ে বসে রাজ্য সরকার। রাতেই পুলিশ, পুরসভা সহ চারটি দপ্তরের প্রতিনিধিকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার সকালের মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী।
সেই রিপোর্ট পাওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যা উঠে এসেছে, তা কলকাতার জন্য অশনি সংকেত। বাড়িটির কোনো বিল্ডিং প্ল্যান নেই। সেখানে ন্যূনতম ফায়ার সেফটির ব্যবস্থা ছিল না। ইতিমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ করা হয়েছে। একটি মামলা রুজু হয়েছে। তার ভিত্তিতে কারখানার মালিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, কেন বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারখানা সম্পর্কিত সমস্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠক থেকেই বাড়িটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সিইএসসির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অভিজিৎ ঘোষ বলেন, ‘রাজ্য সরকারের নির্দেশে পাকাপাকিভাবে ওই বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে আমাদের টিম মোতায়েন করা হয়েছে।’
এদিন বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ জি জে খান রোডের ওই বাড়িতে পৌঁছে যায় কলকাতা পুরসভার বুলডোজার। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কর্মী- আধিকারিকরাও পৌঁছান। গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারপর সম্পূর্ণ বাড়ি খালি করা হয়। শুরু হয় বাড়ি ভাঙার প্রক্রিয়া। ছাদে উঠে যান কয়েকজন। হাতুড়ি দিয়ে সেখানে ভাঙাভাঙি শুরু করেন তাঁরা। বুলডোজার দিয়ে বাড়ির নীচের দিকের কিছু অংশ ভাঙা হয়।