• আরামবাগ মহকুমার তিন কেন্দ্রেই ১০ হাজারের নীচে ভোট বামেদের
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আরামবাগ মহকুমার চার বিধানসভাতেই শোচনীয় ফল হয়েছে বামেদের। গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রত্যেক বিধানসভাতেই লাল পার্টির ভোট কমেছে। আরামবাগ বাদে বাকি তিন বিধানসভা ১০ হাজার ভোটের মাইল ফলকও পেরতে পারেননি বাম প্রার্থীরা। প্রত্যেক কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীদের কাছে লক্ষাধিক ভোটে পরাজিত হয়েছেন বাম প্রার্থীরা। ফলে একদা লালদুর্গ আরামবাগ মহকুমায় বাম ভোটের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূল। বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন পদ্মপার্টির প্রার্থীরা। বামেদের প্রাপ্ত ভোট নিয়েও চর্চা চলছে। কারণ একসময় বামদুর্গ ছিল আরামবাগ মহকুমার চারটি আসন। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল হয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। কিন্তু, তারপরেও বামেদের ভোট নিয়ে মাথাব্যথা ছিল তৎকালীন শাসকের কাছে। কারণ, গোঘাট আসনটি সেই নির্বাচনেও ধরে রেখেছিল বাম শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লক। তারপরের নির্বাচনে অবশ্য ক্ষমতা হারায় বামেরা। গত লোকসভা নির্বাচনে পুরশুড়ায় সিপিএম প্রার্থী বিপ্লব মৈত্র ভোট পেয়েছিলেন ৯৫৮৫টি। আরামবাগে সিপিএমের ভোট ছিল ১২ হাজার ৮৪৬, সিপিএমের গোঘাটে সর্বোচ্চ ভোট ছিল। সেবার সিপিএমের প্রাপ্ত ভোট ছিল ১৩ হাজার ৫৫৪টি। খানাকুলে সিপিএম ভোট পায় ১০ হাজার ৯৭৭টি। গত লোকসভা নির্বাচনে আরামবাগ আসনটি তৃণমূল জেতে। কিন্তু, আরামবাগ বাদে বাকি তিন বিধানসভায় এগিয়ে ছিল বিজেপি।

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাম প্রার্থীরা প্রায় প্রত্যেকদিন ভোট প্রচার করেছিলেন। আরামবাগে যুব নেতা সৃজন ভট্টাচার্য ও খানাকুলে নওসাদ সিদ্দিকি প্রচার করেছিলেন। কিন্তু, তারপরেও লোকসভা নির্বাচনের তুলনাতেও বামেদের ভোট কমেছে আরামবাগ মহকুমায়। তা নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা। 

    নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পুরশুড়ায় সিপিএম প্রার্থী সন্দীপকুমার সামন্ত ভোট পেয়েছেন ৮৭৭২টি। আরামবাগে সিপিএম প্রার্থী বীথিকা পণ্ডিতের প্রাপ্ত ভোট ১১ হাজার ৪১৪টি। গোঘাটের ফব প্রার্থী মুক্তারাম ধাউড়ে ভোট পেয়েছেন ৯১৮৫টি। খানাকুলে বাম শরিক আইএসএফ-এর প্রাপ্ত ভোট ৮০২১টি। লড়াইয়ের নিরিখে বাম প্রার্থীরা তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। 

    সিপিএমের হুগলি জেলা কমিটির সদস্য পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতি, দম্ভ ও গণতন্ত্র না মানার ফলে এবারের ভোটে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। এক্ষেত্রে মানুষের ভোট আমাদের দিকে না এসে বিজেপিতে গিয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় আরামবাগে ভোট কিছুটা কমেছে। এনিয়ে আমরা দলের অভ্যন্তরে পর্যালোচনা করছি।

    বিজেপির পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, রাজ্যের রাজনীতিতে বামেরা এখন অপ্রাসঙ্গিক। মানুষ তৃণমূলের হাত থেকে মুক্তির স্বাদ পেতে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছে। তারই ফল হয়েছে মহকুমার চার আসনে। বিপুল সংখ্যক ভোট পড়েছে বিজেপির বোতামে। 

    তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পলাশ রায় বলেন, সিপিএম নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারেনি। তাদের সমর্থকরা বিগত দিনেও বিজেপিতে ভোট দিয়েছেন। এবারও একই অবস্থা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)