তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তরজা তুঙ্গে বিষ্ণুপুরে
বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটের ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিষ্ণুপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। একে অপরের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি, শাসানি দিচ্ছে। বিজয় মিছিলে বিজেপি জেসিবি ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাড়ি, পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। তারপর থেকেই আসরে নেমেছেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। পিছিয়ে নেই বিজেপি নেতৃত্বও। তারাও বিধায়ককে শুনিয়ে রেখেছে সতর্কবাণী। দিনকয়েক আগে বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বিজয় মিছিলের মোড়কে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন দিলীপবাবু। মিছিল শেষে পদ্মপার্টির উদ্দেশে পরিবহণ দপ্তরের এই প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা সব তৃণমূল বিধায়ক যদি একসঙ্গে নামি, তাহলে বিজেপি ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। আমরা কাউকে আঘাত করি না। কিন্তু যে আঘাত দেওয়া হয়েছে ও আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে, তার প্রত্যুত্তর দিয়েই ছাড়ব। কর্মীরা জেসিবি নিয়ে মিছিল করার পর সাফাই দিতে গিয়ে পদ্মপার্টি বলেছিল, তাদের আত্মরক্ষার জন্যই তারা জেসিবি নিয়ে বেরিয়েছিল। পালটা দিলীপবাবু ১০০ জেসিবি নিয়ে নামার হুংকার দিয়েছেন। তাতে দমেনি বিজেপি। বিধায়কের হুংকারে পালটা বাণ ছুড়েছে তারা। বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার নেতা সুফল ঘাটু বলেন, বিধায়ক নিজের পুরানো অভ্যাস ছাড়তে পারছেন না। এখন আর ধমক-চমকের রাজনীতি করা যাবে না।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় মোট ৩১টি আসনের মধ্যে ৩০টিতে এখনও অবধি ভোটগ্রহণ হয়েছে। তার মধ্যে ৯টিতে বিজেপি জয় পেয়েছে, উলটো দিকে তৃণমূল জিতেছে ২০টিতে। বাকি একটি আসন পেয়েছে আইএসএফ। শহরের চারটিতে তৃণমূল হেরেছে, সেগুলি পুনরুদ্ধার করবে দল, এমনটাই দাবি করেছেন দিলীপবাবু। সাতগাছিয়া বিধানসভায় আগামী লোকসভা ভোটে ১৫ হাজার মার্জিন পাবে তৃণমূল, ভবিষ্যদ্বাণী বিধায়কের। এলাকায় শান্তি বজায়ের পাশাপাশি বিজেপিকে সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে এ কথায় কান দিচ্ছে না বিজেপি। সুফলবাবুর পালটা তোপ, মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে তৃণমূলকে। তাও শিক্ষা নেই তাদের। এখন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। তাও না শোধরালে ফের একই পরিণতি হবে।