সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: নামের সঙ্গে জুড়েছিল ‘সুপার স্পেশালিটি’ তকমা। কথা ছিল, সাধারণ মানুষের কাছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেবে আমতার ২৪০ শয্যার এই হাসপাতাল। কিন্তু কথাই সার। এখনও সেভাবে পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে রোগের চিকিৎসা করার কেন্দ্র এই হাসপাতালই এখন ‘রেফার রোগে’ আক্রান্ত।
এতে সমস্যায় পড়ছেন রোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে একাধিক বিভাগ আছে বটে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে উলুবেড়িয়ায় রেফার করে দেওয়া হচ্ছে। বাম আমলে তৈরি হওয়া আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা তলানিতে চলে গিয়েছিল। ২০১১ সালে রাজ্য নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই হাসপাতালকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ শয্যার করা হয় একে।পরবর্তী সময়ে একে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়। ঠিক হয়, প্রায় ২৮ হাজার স্কোয়ার ফিট এলাকা নিয়ে ২৪০ শয্যার এই হাসপাতাল তৈরি করা হবে। দুটি পর্যায়ে এর নির্মাণ হবে। প্রথম পর্যায়ে চারতলা ভবন তৈরি হবে। হাসপাতালে সিসিইউ, এনআইসিইউ, আইটিইউ, ডায়ালিসিস ইউনিট ছাড়াও একাধিক উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। হাসপাতালে আসা রোগীদের সুবিধার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি লিফট এবং র্যাম্প থাকবে।
সেই মতো হাসপাতাল নির্মাণের পর চালুও হয়। যদিও তারপর থেকেই রোগী পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। রোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, দিনের বেলায় হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া গেলেও রাতের দিকে সেভাবে পরিষেবা পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উলুবেড়িয়ায় রেফার করে দেওয়া হয়। একাধিক বিভাগে সেভাবে পরিষেবাই পাওয়া যায় না। তাঁদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালের চারিদিক অপরিষ্কার। ভিতরে থাকা পুকুরের চারিদিকে বনজঙ্গলে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। সাপের আড্ডা বেড়েছে। বাইরে থেকে দেখতে ঝাঁ চকচকে বিল্ডিং, আর নামেই সুপার স্পেশালটি হাসপাতাল। এখানে সেভাবে চিকিৎসা পরিষেবাই পাওয়া যায় না। প্রশাসনকে এদিকে নজর দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক চিরণ বেরা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমতা সুপার স্পেশালটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াটা আমার প্রথম কাজ হবে। কোনোভাবেই হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা যাবে না। নিজস্ব চিত্র