• বেআইনি নির্মাণে জরিমানা দিয়ে ‘ছাড়’ এবার কি বন্ধ হবে? কলকাতা পুরসভার অন্দরে তুমুল চর্চা
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার তিলজলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ফের শহরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। ইতিমধ্যে ওই ঘটনার রিপোর্ট জমা পড়েছে রাজ্যের কাছে। তাতে বলা হয়েছে, যে বহুতলে চর্মশিল্পের কারখানাটি চলছিল, সেটি বেআইনি। সেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকালে সেই কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোটা অংকের জরিমানা নিয়ে বেআইনি নির্মাণে ‘ছাড়’ বা ‘রেগুলারাইজেশন’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অবৈধ নির্মাণকে এভাবে ‘ছাড়’ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে কলকাতা পুরসভার অন্দরে। সূত্রের খবর, ‘রেগুলারাইজেশন’-এর বিষয়ে ইতিমধ্যে কড়া মনোভাব পোষণ করেছেন পুর কমিশনার। ফলে আইনি পথেই এই কাজ হলেও ভূরি ভূরি ‘রেগুলারাইজেশন’ এবার প্রশ্নচিহ্নের মুখে। ভবিষ্যতে আদৌ এই পদ্ধতি পুরসভা নেবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

    বিগত কয়েক বছরে কলকাতা পুরসভা যেমন বেশ কিছু বেআইনি নির্মাণ ভেঙেছে, তেমনি মেয়র পরিষদের মাসিক বৈঠকে ভূরি ভূরি অবৈধ নির্মাণকে জরিমানা নিয়ে ‘বৈধ’ করা হয়েছে। জরিমানা বাবদ মোটা টাকা এসেছে পুরসভার ভাঁড়ারে। পুরসভার দাবি, আইন মোতাবেক সব হয়েছে। প্রতি মাসে মেয়র পরিষদের বৈঠকে আলোচনার যে বিষয়বস্তু (অ্যাজেন্ডা) থাকে, তার ৫০ শতাংশের বেশি বিল্ডিং ‘রেগুলারাইজেশন’ সংক্রান্ত। শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণে ইতি টানতে কয়েক বছর আগে ‘রেগুলারাইজেশন ফি’ এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। মোটা টাকার জরিমানার ভয়ে বেআইনি নির্মাণে কিছুটা রাশ টানা সম্ভব হয়। 

    রাজ্য সরকারে পালাবদলের পরিস্থিতিতে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৮ মে পুরসভার মেয়র পরিষদের বৈঠক রয়েছে। সেখানে বেআইনি বিল্ডিং ‘রেগুলারাইজেশন’ কতটা করা যাবে, তা নিয়ে চর্চা চলছে পুরসভার অন্দরেই। আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, বেআইনি নির্মাণ বহু জায়গায় ভাঙাও হয়েছে গত কয়েক বছরে। অনেক ক্ষেত্রে আবার আইনি জটিলতায় ভাঙার কাজ আটকে গিয়েছে। কিন্তু মোটা জরিমানার বিনিময়ে বেআইনি নির্মাণে ছাড়ের বহর বেড়েছে, এটাও সত্যি। সেটা কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এমনকি, বাইপাস সংলগ্ন একটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলারের বাড়ির বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া প্রায় অর্ধেক অংশ ‘রেগুলারাইজেশন’ করা হয়েছিল। তা নিয়ে তুমুল বিতর্কও হয়। যদিও বিল্ডিং বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘বেআইনি বিল্ডিংয়ের রেগুলারাইজেশন নিয়ম মেনেই হয়েছে। নজরদারি রয়েছে। ফলে বেআইনি নির্মাণ অনেকটাই বন্ধ করা গিয়েছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)