ডিউটি না করে চিকিৎসকরা চেম্বার করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য প্রশাসনকে, চুঁচুড়া হাসপাতাল পরিদর্শনে বিধায়ক সুবীর নাগ
বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এবারের ভোটে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালের একগুচ্ছ অব্যবস্থাকে প্রচারে ইস্যু করেছিল বিজেপি। ভোটে জেতার পর হাসপাতালের ‘রোগ’ সারাতে ময়দানে নেমে পড়লেন নতুন বিধায়ক সুবীর নাগ। বিধায়ক হিসাবে বুধবার প্রথম জেলা হাসপাতাল ইমামবাড়ায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সুপার সহ হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক। তারপরেই একগুচ্ছ ‘কড়া দাওয়াই’-এর সুপারিশ করেছেন। সুবীরবাবু এদিন স্পষ্ট করে বলেছেন, হাসপাতালে ডিউটি না করে অন্যত্র চেম্বার করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। নাহলে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এ বিষয়ে সুপারকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নাগরিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এটি জেলা হাসপাতাল। এখানে পরিকাঠামো থাকলেও চিকিৎসকদের সদিচ্ছার অভাবে পরিষেবা মিলছে না। এনিয়ে অতীতে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল নেতৃত্ব ও প্রাক্তন বিধায়ক, এমনকি, বর্তমান সাংসদও প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু সমাধান করতে পারেননি। এদিন সুবীরবাবুর হুঁশিয়ারিতে ভরসা পেতে চাইছেন নাগরিকরা। সুবীরবাবু বলেন, চিকিৎসকদের কাছে নিশ্চয়ই কোনো আশ্বাসবাণী ছিল। যে কারণে তাঁরা হাসপাতালের কাজে ফাঁকি দিতেন। হাসপাতাল প্রশাসনও বিষয়টিকে উপেক্ষা করেছে। আমি হাসপাতাল প্রশাসনকে স্পষ্ট করে বলেছি, বরাদ্দ ডিউটি না করে যিনি চেম্বার করবেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় মিলবে না। বিষয়টি আমি রাজ্য প্রশাসনের যথাযোগ্য স্থানে জানাব। নিয়ম মানলে আমি নিজে হাসপাতাল প্রশাসনের পাশে থাকব। নাগরিকদের বড়ো ভরসার জায়গা চুঁচুড়া হাসপাতাল। সেই ভরসা ধরে রাখতে হবে।
হাসপাতালের আরেকটি সমস্যা হল অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। রোগীদের পরিবারের অভিযোগ, চুঁচুড়া থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট রেট-চার্ট নেই। সুযোগ বুঝে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা নিজেদের মতো দর হাঁকেন। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই ওই টাকা দিতে হয় রোগীর পরিবারকে। এ বিষয়েও পদক্ষেপের কথা বলেছেন সুবীর নাগ। তিনি বলেন, ঝোপ বুঝে কোপ মারা চলবে না। আমরা অ্যাম্বুলেন্স চালক সহ সব মহলের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট রেট-চার্ট তৈরি করব। হাসপাতালের নির্দিষ্ট জায়গায় অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। নির্দিষ্ট ভাড়ায় চলবে। অন্যথা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একমাসের মধ্যে আমরা সব অনিয়ম গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে চাই। চিকিৎসা একটি পরিষেবা। এক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, সুবীরবাবুর এদিনের হাসপাতাল সফর যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও তথ্যের ভিত্তিতে হয়েছে, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ভোটকালীন প্রতিশ্রুতিকে যে বাস্তবায়িত করতে চান পদ্ম বিধায়ক, তারও ইঙ্গিত মিলেছে। এমনিতে চুঁচুড়া হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে নাগরিকদের সীমাহীন ক্ষোভ রয়েছে। তার কতটা প্রশাসন ও বিধায়ক মেটাতে পারেন, সেটাই দেখার। নিজস্ব চিত্র