নৈহাটিতে গেরুয়া সুনামি, ৩১টির মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডে জয় বিজেপির, বড়োমার মন্দির কমিটিতেও হবে পরিবর্তন
বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: এবার বিধানসভা ভোটে নৈহাটিতে গেরুয়া সুনামি দেখা দিয়েছে। নৈহাটি পুরসভার ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৭টিতেই জিতেছে বিজেপি। মাত্র চারটি ওয়ার্ড দখলে রাখতে পেরেছে তৃণমূল। তার মধ্যে অবশ্য চেয়ারম্যানের ওয়ার্ড রয়েছে। এখন যা পরিস্থিতি, চেয়ারম্যান নিজেই পুরসভায় ঢুকতে পারছেন না। নৈহাটি পুরসভার কাজকর্ম শিকেয় উঠেছে। ৩৩৭ জন অস্থায়ী কর্মীর বেতন বন্ধ হয়ে রয়েছে। সমস্যায় পড়েছেন সাফাইকর্মী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। তবে সাফাই অভিযান চালু করার জন্য পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বন্ধ হবে না। পুরসভার অফিসারদের তা মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্লিন নৈহাটি’ করাই আমাদের লক্ষ্য। পুরসভাকে সেই কাজ করতে হবে।
নৈহাটি পুরসভার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ৩১টির মধ্যে ২, ৩, ১৬ এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল জিতেছে। এর মধ্যে ১৮ নম্বর হল পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়ের নিজস্ব ওয়ার্ড। বাকি ২৭টিতে গোহারা হয়েছে ঘাসফুল। এমনকি, তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে তাঁর নিজের ওয়ার্ডে পর্যুদস্ত হয়েছেন। হার হয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সিআইসি সদস্যদের ওয়ার্ডেও। জনাদেশে তৃণমূল প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় নৈহাটি পুরসভার কাজকর্ম কার্যত শিকেয় উঠেছে। চেয়ারম্যান থেকে সিআইসি সদস্য— কেউই পুরসভায় আসছেন না। কেন যাচ্ছেন না, এই প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘গেলেই তো বলবে, ফাইল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। তাই যাচ্ছি না। দেখা যাক, নতুন সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়। খারাপ লাগছে ৩৩৭ জন অস্থায়ী কর্মীর বেতন বন্ধ হয়ে রয়েছে।’
এদিকে, বড়োমার মন্দির কমিটির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে চলেছে। এ ব্যাপারে আজ, বৃহস্পতিবার মন্দির কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বহু মানুষ এখানে পুজো দিতে আসেন। এখানে ভিআইপি কালচার থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বাদে সবাইকে লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দিতে হবে। মন্দির কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকা ঠিক নয়। প্রতিমা দর্শন এবং পুজো দেওয়ার লাইন আলাদা হবে। আমি পুরসভায় চেয়ারম্যানকে যেতে বারণ করিনি। তবে তিনি কেন যাচ্ছেন না, তা জানি না। অস্থায়ী কর্মীরা নিশ্চয়ই বেতন পাবেন। আমি চাই, দুর্নীতিমুক্ত পুর প্রশাসন হোক। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া, তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির জন্যই মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। শুধু পুরসভা নয়, প্রতিটি পঞ্চায়েতেই আমি জিতেছি। সকলের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।