পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের হাওয়া যখন গরম, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াত অভিযোগ করেছিলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্র অর্থ বরাদ্দ করলেও রাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে না। তাঁর মন্ত্রকের তরফেও এই অভিযোগ প্রায়শই করা হত। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর আজ দৃশ্যতই খুশি শেখাওয়াত। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার নিয়ে প্রশ্ন করায় বলছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর যে সংস্কৃতি ও নীতির সরকার তৈরি হয়েছে, আমি নিশ্চিত যে আমাদের কাজে শক্তি, গতি আসবে।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, “পর্যটনের ক্ষেত্রে একের পর এক বৈঠক হত রাজ্যগুলিকে নিয়ে, সিদ্ধান্তও হত। অন্যান্য রাজ্যের সচিব, মন্ত্রীরা এলেও পশ্চিমবঙ্গের কেউ আসতেন না। আজ আপনাকে একটা খুশির খবর দিই। ৯ তারিখ রাজ্যে সরকার তৈরি হয়েছে আর ১১ তারিখ তেঘরিয়ায় আমি পর্যটন নিয়ে বৈঠক করেছিলাম। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সচিব হাজির! এ বার রাজ্যের চাকা ঘুরতে চলেছে।”
ভোটের আগে মালবাজারে গিয়ে গজেন্দ্র বলেছিলেন, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকলেও পর্যটনের দিক থেকে বাংলা অন্য রাজ্য থেকে অনেক পিছিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উদাসীনতার ফলে বাংলায় পর্যটনের সে ভাবে প্রসার হয়নি। তাঁর কথায়, “বিগত বছরে কেন্দ্রীয় সরকার পর্যটনের বিকাশের জন্য কয়েকশো কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনও প্রকল্পের সুবিধা নেয়নি।”
বাংলার চন্দ্রকেতুগড় থেকে বিপুল পরিমাণ পুরাবস্তু, টেরাকোটার মূর্তি বিভিন্ন দেশে চোরাচালান করা হয়েছে।। সেগুলি ফিরিয়ে আনার জন্য কি কোনও ব্যবস্থা নেবে সরকার? মন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ-সহ যে কোনও জায়গা থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া পুরাতাত্ত্বিক দ্রব্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় ভারত সরকার দায়বদ্ধ।”
আমেরিকা থেকে ভারতের পুরাতাত্ত্বিক সামগ্রী ফিরিয়ে আনা নিয়ে আজ সাংবাদিক বৈঠক করেন গজেন্দ্র। চোল সভ্যতার শিব নটরাজ, দ্বাদশ শতকের শিব ও উমার মূর্তি, ষোড়শ শতকের বিজয়নগর যুগের মূর্তি ফেরানো গিয়েছে। এগুলি তামিলনাড়ুর। চোরাপথে বিংশ শতকের মাঝামাঝি তা ভারত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হয়েছিল আমেরিকার স্মিথসোনিয়ান মিউজ়িয়ামে। দীর্ঘ কূটনৈতিক দৌত্যে এগুলি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলেজানাচ্ছে কেন্দ্র।