মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) নিয়ে আরএসএস গর্বিত বলে জানালেন সংঘের শীর্ষ নেতা দত্তাত্রেয় হোসাবালে। শুভেন্দুকে ‘ছেলে’ বলেও স্নেহের সুরে সম্বোধন করেছেন সংঘের সাধারণ সম্পাদক। সদ্য বিধানসভা ভোটে বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্তির পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম জয়ের পাশাপাশি ভবানীপুরে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও হারিয়েছেন তিনি। ২০২১-এর ভোটেও নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। প্রত্যাশিত ভাবেই মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি ছাড়া আর কোনও নাম নিয়ে ভাবার অবকাশ ছিল না বিজেপির। যদিও শুভেন্দু ছাড়াও ভিন রাজ্যে সম্রাট চৌধুরি, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতো অন্য দল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের উত্তরে হোসাবালে বলেন, “এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই যে, স্কুলে পড়ার সময়ই আরএসএসে নাম লেখাতে হবে। এমন অনেকেই আছেন যাঁরা অনেক পরে সংঘে শামিল হয়েছেন।” শুভেন্দুদের মতো নেতাদের সংঘে যোগ দিতে সদস্যপদ নেওয়ার দরকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্য দল থেকে বেশি করে লোকজনের সংঘের ছত্রছায়ায় আসার প্রবণতায় আরএসএস কি উদ্বিগ্ন না খুশি, প্রশ্ন করা হলে হোসাবালে বলেন, “আমরা খুশি। বিজেপি বড় হচ্ছে। যার অর্থ তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। নতুন নেতারাও ধীরে ধীরে আরএসএসকে বুঝতে পারবেন।”
বিজেপিতে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের কি আরএসএসেও নাম লেখাতে বলবেন? হোসাবালের উত্তর, “আরএসএসের আনুষ্ঠানিক সদস্যপদের কোনও ব্যাপার নেই। আমিই তো আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ গ্রহণ করিনি। আরএসএস একটা পরিবার গোছের ব্যাপার। তাই যিনিই সেই পরিবারে আসেন, তার একজন হয়ে ওঠেন। ঠিক যেমন একটি পুত্রবধূ কোনও পরিবারে এলে কোনও ফর্ম পূরণ করতে হয় না, আপনা আপনিই তিনি তার সদস্য হয়ে যান।” তাহলে শুভেন্দু? হোসাবালের মন্তব্য, “আমরা এ ছেলেকে নিয়ে গর্বিত।”
বিজেপির বাংলা জয়ে আরএসএস (RSS) ও তার স্বয়ংসেবকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোসাবালে বলেন, “নাগরিক হিসাবে ওরা সব কিছুই করেছে।” সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আগে কমিউনিস্ট শাসন, পরে তৃণমূল জমানায়, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে আমাদের স্বয়ংসেবকরা মার খেয়েছে স্রেফ সনাতনী হিন্দুদের কথা বলায়, সংঘের শাখা চালানোয়, মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ প্রচার করায়। শাসকদল বা তাদের মদতপুষ্ট লোকজনের হাতে নির্যাতিত হয়েছে।”