মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ ইতিমধ্যেই গৃহস্থের হেঁসেলে পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানিতেও যে সংকট আসন্ন, সেটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মিতব্যয়ী’ হওয়ার আহ্বান থেকে স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্য ও অন্যন্য গৃহস্থালির পণ্যে যাতে সংকট তৈরি না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনি রপ্তানিতে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। এর ফলে বিশ্ব বাজারে চিনির বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গোটা বিশ্বের চিনির চাহিদার একটা বড় অংশ পূরণ করে ভারত। ২০১৭-১৮ সালে বিশ্বের মোট চিনি রপ্তানির ৩.৪ শতাংশ ছিল ভারতের দখলে। ২০২১-২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ শতাংশে। পরবর্তীকালে সেটা আরও বেড়েছে। কিন্তু যুদ্ধের আবহ এবং আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কথা মাথায় রেখে এবার সেটার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।
এমনিতেই এতদিন চিনি রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত ছিল। সব মিলিয়ে ১.৫৯ টন চিনি এ বছর রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল মিলগুলিকে। কিন্তু এবার থেকে আর চিনি রপ্তানি করা যাবে না। কাঁচা, সাদা এবং পরিশোধিত সব ধরনের চিনির রপ্তানিতেই এবার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তারপর পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় দেশে আখ চাষের ক্ষতি হয়েছে চলতি মরশুমে। আখ উৎপাদনকারী দুই রাজ্য মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবার কম হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এল নিনোর আশঙ্কাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে আখ উৎপাদন কমে যেতে পারে। যা চিনি উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ঘরোয়া বাজারে চিনির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চিনির রপ্তানিতে এই নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধের আবহে ভারতীয় অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ হতে পারে। এমনিতেই জ্বালানি সংকটে দেশের ফরেন রিজার্ভ কমতির দিকে। চিনি রপ্তানিতে যে বিদেশি মুদ্রা কোষাগারে ঢুকত, সেটাও এবার হাতছাড়া হতে পারে।