• শিল্পের জন্য কোথায় কত জমি পড়ে, কাজ থমকে কেন? শিল্পাঞ্চলে খোঁজ শুরু নতুন সরকারের
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • সুখেন্দূ পাল, বর্ধমান: শিল্প স্থাপনে জোর দিতে চাইছে রাজ্যের নতুন সরকার। শিল্পের জন্য কোন জেলায় কত জমি উদ্যোগপতিরা নিয়ে রেখেছেন, তার খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে। জমি নেওয়ার পর কী কারণে কাজ শুরু করা যায়নি সেই তথ্যও নেওয়া হবে। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে কোনো কারখানার তৈরির কাজ আটকে থাকলে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। শিল্পে জোয়ার আনতে কয়েক দিনের মধ্যে উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। প্রশাসন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।

    তৃণমূলের জমানায় বিভিন্ন জেলায় শিল্পতালুক তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত শিল্প আসেনি। অনেক উদ্যোগপতি জমি নিয়েও বিভিন্ন কারণে কারখানা করেননি। কোথাও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় জমির অভাবে শিল্প স্থাপন হয়নি। সেই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান করা হবে। এক আধিকারিক বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি করা নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা করতে হলে শিল্প স্থাপন করতেই হবে। সেই কারণে সরকার গোড়াতেই এই কাজে জোর দিতে চাইছে। কিছু কারণের জন্য বিগত কয়েক বছরে রাজ্যে বিভিন্ন কারণে সেভাবে বড় কারখানা তৈরি হয়নি। প্রথমত, জমি নিয়ে উদ্যোগপতিদের বারবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে। জেলায় জেলায় দালালরাজ সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। তাদের এড়িয়ে জমি কেনা অসম্ভব হয়ে ওঠে। সরাসরি জমি কিনতে গেলে উদ্যোগপতিদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ‘দাদা’-দের নানা বায়ানক্কা মেটাতে হয়েছে। কোথাও কোথাও এরমধ্যেও কারখানা তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে উদ্যোগপতিদের অন্য বিপাকে পড়তে হয়েছে। কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেট থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে। তাতে অনেক দক্ষ কর্মী নিয়োগ করা যায়নি। রাজ্যে ইথানল সহ বিভিন্ন ধরনের কারখানা তৈরির জন্য বেশ কয়েকজন উদ্যোগপতি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁরা ওই পরিবেশে কারখানা তৈরির ঝুঁকি নেননি।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি জেলাতেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প তৈরি হতে পারে। উদ্যোগপতিদের তারজন্য আহ্বান জানানো হবে। কারখানা তৈরির কাজে বাইরের কারও দাদাগিরি মানা হবে না। সেই বার্তাও রাজ্যের তরফ থেকে দেওয়া হবে। হুগলি, দুই বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলাতেই জমি নিয়ে অনেকে ফেলে রেখেছেন। তাঁদেরও কাজ শুরু করতে বলা হবে। শিল্প স্থাপনের কাজে তাদের সহযোগিতা করা হবে বলে বৈঠক ডেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আধিকারিকরা বলছেন, কর্মসংস্থান তৈরির জন্য নতুন সরকার সব রকম ব্যবস্থা নেবে। রাজ্যে শিল্পের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্য জোর দেওয়া হয়েছে।

    কারখানা তৈরি করার ক্ষেত্রে যাতে প্রশাসনিক কোনো জটিলতা না থাকে, সেই দিকটিও আধিকারিকদের দেখতে বলা হয়েছে। কাজ সরলীকরণের জন্য নতুন কিছু নিয়ম চালু হতে পারে।
  • Link to this news (বর্তমান)