পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কেরালাতেও তা-ই ঘটতে চলেছে। ভোট মিটে যাওয়ার পর প্রায় ১০ দিন ধরে নানা টানাপড়েন, আলাপ-আলোচনার পর শেষে সেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীশনকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। ফলে এ যাত্রা ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ল না রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত কেসি বেণুগোপাল বা প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালার।
কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বাছতে বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাড়িতে রাহুল-সহ দলের শীর্ষ নেতারা প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেছিলেন। তার পরেই কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছিলেন, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা দলীয় নেতৃত্ব ঠিক করে ফেলেছেন। বৃহস্পতিবারই তা ঘোষণা করে দেওয়া হবে। সেই মতোই এ দিন সতীশনের নাম ঘোষণা করল কংগ্রেস। দলের এক সূত্র সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে বলেছেন, ‘প্রবীণ নেতা সতীশন মানুষের পছন্দ তো বটেই, শরিকদেরও পছন্দের। তাঁকে অন্য কোনও দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হতো না। তাই সব দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছি আমরা।’
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, কেরালায় পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন বেণুগোপাল। কংগ্রেস সূত্রের খবর ছিল, দলের ৬৩ জন বিধায়কের মধ্যে ৪৭ জন তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন। বেণুগোপাল সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক। সূত্রের আরও দাবি ছিল, সতীশনকে মাত্র ৬ জন ও চেন্নিথালাকে মাত্র ৮ জন বিধায়ক সমর্থন জানিয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফও বেণুগোপালকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন। কারণ তাঁর সঙ্গে গত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সতীশনের সম্পর্ক একেবারেই ‘মসৃণ’ নয়। তার পরেও সতীশনকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হলো।
বিগত দশ বছরের বাম সরকারের পতনের পরে কেরালায় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট ক্ষমতায় এসেছে। ১৪০ আসনের বিধানসভায় ইউডিএফ পেয়েছে ১০২টি আসন। এর মধ্যে কংগ্রেস ৬৩টি আসন পেয়েছে। বিধায়কদের মত জানতে দলীয় নেতা মুকুল ওয়াসনিক ও অজয় মাকেনকে তিরুঅনন্তপুরমে পাঠিয়েছিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। বৃহস্পতিবার বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পরে মুকুল ওয়াসনিক বেরিয়ে আসার সময়ে দেখা যায়, তাঁর হাতের কাগজে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি-সহ অধিকাংশ বিধায়ক বেণুগোপালের পক্ষে মত দিয়েছেন। ওয়াসনিক ইচ্ছাকৃত ভাবেই তা ফাঁস করেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কংগ্রেস সূত্রের খবর, বিধায়কদের মতামতের সঙ্গে শরিক দলের মতামত ও আমজনতার মধ্যে জনপ্রিয়তা কার বেশি, তা-ও মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাপকাঠি ছিল।