• হাইকোর্টের বাইরে মমতাকে দেখে ‘চোর’ স্লোগান, কোনও মতে গাড়িতে উঠলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
    এই সময় | ১৪ মে ২০২৬
  • কলকাতা হাইকোর্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ‘চোর’ স্লোগান। বৃহস্পতিবার তুমুল উত্তেজনা ছড়াল হাইকোর্ট চত্বরে। এ দিন ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সওয়াল করার জন্য আদালতে গিয়েছিলেন মমতা। সেখান থেকে বেরোনোর সময়ে তাঁকে দেখে চিৎকার করতে থাকতেন আইনজীবীদের একাংশ। বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। ভিড়ের মাঝখান থেকে কোনও মতে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠেন তিনি। অন্যদিকে শুনানি শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক নম্বর এজলাস থেকে বেরোনোর সময়েও অলিন্দে জয় শ্রীরাম ধ্বনি ওঠে। পাল্টা জয় বাংলা ধ্বনি শোনা যায়। বিরক্ত হয়ে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এজলাস ছেড়ে উঠে যান।

    ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সওয়াল করার জন্য এ দিন হাইকোর্টে যান মমতা। তৃণমূলের তরফে এই মামলা দায়ের করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন একেবারে আইনজীবীর পোশাক পরে আদালতে ঢোকেন মমতা। বেশ কিছুক্ষণ সওয়ালও করেন তিনি।

    এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করতে উঠলে, তাঁর সওয়াল করা নিয়ে উড়ে আসে মন্তব্য। যদি এমনটা চলে, তা হলে বেলা ২টোয় আবার মামলা শোনা হবে বলে সতর্ক করেন প্রধান বিচারপতি।

    এ দিকে আদালত কক্ষ থেকে মমতা বেরিয়ে আসতেই নজিরবিহীন ছবি দেখা যায়। মমতাকে দেখে ‘চোর, চোর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন আইনজীবীদের একাংশ। তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনতে তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের আইনজীবী, পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পরিস্থিতি এমন ঘোরালো হয়ে ওঠে, মমতাকে বের করে আনাটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।

    এ দিন মামলা চলাকালীন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আগের বারের থেকেও বেশি হিংসা হচ্ছে এ বার। আগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায়ের অনুসরণে নির্দেশ দেওয়া হোক।’ নিউ মার্কেটে বুলডোজ়ার চালানোর ঘটনায় অন্য এক জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও বলেন, ‘জীবনের অধিকার ও বাঁচার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। ৫ বিচারপতির বেঞ্চের মামলার সঙ্গে প্রয়োজনে এই মামলা যুক্ত করা হোক।’

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল পর্বে জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি আইনজীবী। মমতা সওয়াল করেন, ‘১০ জন এখনও খুন হয়েছেন ভোট পরবর্তী হিংসায়। নব বিবাহিত দম্পতিকে হামলা করে বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে। এমনকী তাঁর বাড়িতে পর্যন্ত হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত বাড়ির সামনে হল্লা চলছে। নিরাপত্তার অভাব রয়েছে সর্বত্র। বাড়ি, অফিস লুট করা হচ্ছে। আমাদের কাছে ছবিও আছে। এটা বুলডোজ়ারের রাজ্য নয়, সাংস্কৃতিক রাজ্য। রক্ষা করুন।’

    সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার দেখিয়ে তৃণমূলের তরফে এ দিন দাবি করা হয়, এখনই এখানে বুলডোজ়ার ব্যবহারের পাল্টা পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হোক। বুলডোজ়ার ব্যবহারে নিষেধ করা হোক।

    ডিএসজি ধীরাজ ত্রিবেদী বলেন, ‘বুলডোজ়ার দিয়ে ভাঙার ঘটনায় আমরা কলকাতা পুলিশকে খবর দিয়েছিলাম। তারা ঘটনাস্থলে যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা হয়েছে কি না সেটা দেখা হোক। যে সব অভিযোগ করা হয়েছে, তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ২ হাজার জায়গায় ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এটা কি বাস্তব? কয়েকটা জায়গার নাম উল্লেখ করে ২ হাজার ঘটনার অভিযোগ করা হয়েছে। কোথায় কী হয়েছে, কীসের ভিত্তিতে তদন্ত হবে? কবে, কখন, থানায় কোনও অভিযোগ হয়েছে কি না তার কোনও রেফারেন্স নেই। তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে পুলিশকে সময় দেওয়া হোক। হিংসার ঘটনা আর তাকে ভোট পরবর্তী হিংসা বলে চালিয়ে দেওয়া, দু’টো এক জিনিস নয়।’

    যদিও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যাবতীয় অভিযোগের বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। শুনানি শেষ, রায়দান স্থগিত।

  • Link to this news (এই সময়)