• মুখ্যমন্ত্রীর যাত্রাপথে বজ্র আঁটুনি, ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা
    এই সময় | ১৪ মে ২০২৬
  • এই সময়, উলুবেড়িয়া: রাজ্যে পালবদলের সঙ্গে সঙ্গে হাওড়ার ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা আরও আটসাট করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে ট্র্যাফিক পুলিশের সংখ্যা। বসছে নতুন সিসিটিভি। যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য বসানো হয়েছে নতুন গার্ডরেল। তার কারণ হিসেবে জেলা পুলিশ কর্তারা জানাচ্ছেন, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন তখন এই রাস্তা দিয়ে কাঁথির বাড়িতে ফিরতে পারেন। তাঁর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখনও তিনি নিয়মিত এই রাস্তা দিয়েই বাড়ি ফিরতেন। এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসলেও সেই রুটিনে খুব একটা বদল ঘটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না পুলিশ।

    জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তার ব্যাখ্যা, হাওড়ার ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক খুবই দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। উলুবেড়িয়া, পাঁচলা, রানিহাটি, বাগনান প্রভৃতি এলাকায় জাতীয় সড়কের উপরে একাধিক ক্রসিং রয়েছে। রাস্তার পাশেই নিয়মিত হাটবাজার বসে। রাস্তার দু'ধারে অনেক কলকারখানা থাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লোকজন রাস্তা পারাপার করেন। কখনও আবার নিয়ম ভেঙে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয় রাস্তার উপরেই। তার জেরে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। যেহেতু এখন থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করবেন, তাই আগে থেকেই সাবধানী পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় যাতে বাধা বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য নিরাপত্তা দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার ধামসিয়া মোড় থেকে বাগনান থানার নাউপালা পর্যন্ত প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সুরক্ষার জন্য বিশাল সংখ্যক পুলিশকে সবসময় প্রস্তুত রাখা হবে। মুখ্যমন্ত্রী যখন যাবেন তখন রাস্তার মোড়ে মোড়ে হাজির থাকবেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। রাস্তার পাশে মোতায়েন করা হবে সিভিক পুলিশকে। অফিসে বসে সিসিটিভিতে নজর রাখবেন পুলিশের বড় কর্তারা। জাতীয় সড়কের পাশে যে সব জায়গায় বাজারহাট বসে, সেগুলিকেও এখন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অদূর ভবিষ্যতে হাটগুলিকে রাস্তার পাশ থেকে সরানোর কথা ভাবছে পুলিশ।

    হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলার অধীনে ট্র্যাফিক পুলিশের তিনটি থানা আছে। এগুলি হলো যথাক্রমে রাজাপুর, উলুবেড়িয়া ও বাগনান ট্র্যাফিক গার্ড। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সবথেকে বিপজ্জনক এলাকা হলো পাঁচলা মোড়, নিমদিঘি, কুলগাছিয়ার পীরতলা, বাগনান লাইব্রেরি মোড়, বাগনান-আমতা রোড এবং নাউপালা। এগুলি সবই জনবহুল এলাকা। এই এলাকাগুলির উপরে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।

    জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, 'হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ট্র্যাফিক পুলিশের জন্য একজন ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করবেন, সে কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ঢেলে সাজা হচ্ছে। রাস্তার পাশে গার্ডরেলের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। প্রত্যেকটি মোড়ে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সংখ্যাটা আরও বাড়বে। হঠাৎ করে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে রাস্তা ক্লিয়ার করার জন্য ক্রেন রাখা থাকছে। যেখানে যেখানে রাস্তা খারাপ আছে সেগুলোকে মেরামত করার জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)