• অন্নপূর্ণার মতো প্রকল্পের উপভোক্তা বাছাইয়েও মাপকাঠি SIR, শুভেন্দুর সরকারের পথে হাঁটছে বিহারও
    এই সময় | ১৪ মে ২০২৬
  • ভোটের পাট চুকে গিয়েছে। এ বার নতুন সরকারের নানা সামাজিক অনুদান প্রকল্পেও মাপকাঠি হতে চলেছে সেই এসআইআর! সংশোধিত ভোটার তালিকা যাচাই করেই স্থির হবে, ( Voter List Deletion Impact on Benefits) অনুদান প্রকল্পের টাকা কারা পাবেন এবং কারা উপভোক্তার তালিকা থেকে বাদ যাবেন। বাংলায় আপাতত এই নীতি নিয়েই এগোনোর কথা ভেবেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। প্রাথমিক ভাবে সরকারের কাজ দেখে ওয়াকিবহাল মহলের মত, স্বচ্ছতার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে এই সরকার। বিহারে সম্রাট চৌধরির সরকারও এ বার সেই পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    বিভিন্ন ভাতা বা অনুদান প্রকল্পে উপভোক্তাদের তালিকায় প্রচুর অযোগ্য রয়েছে বলে একাধিক বার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল জমানায়। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে বিজেপি জিতে ক্ষমতায় আসার পরেই জানিয়ে দিয়েছে, উপভোক্তাদের তালিকা এ বার যাচাই হবে। গত সোমবারই সরকার জানিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকে শুরু হবে অন্নপূর্ণ প্রকল্প। তাতে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন মহিলা উপভোক্তারা। সেই দিনেই শুভেন্দুর সরকারের নারী-শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, যাঁরা এ দেশের নাগরিক নন, তাঁরা উপভোক্তাদের তালিকায় থাকবেন না।

    তবে অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদের নাম আপাতত উপভোক্তাদের তালিকায় থাকবে। মন্ত্রীর কথায়, ‘ওঁঁরা আবেদন করেছেন। মানে বিচারাধীন। ফলে ওঁদের নাম এখনই বাদ দেওয়া যায় না। মোদ্দা কথা, ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক। এসআইআর-এ যে ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সেই তালিকা যাচাই হবে ( West Bengal Bihar Government Scheme Rules 2026) । যাঁরা মৃত, তাঁরা হয়তো আগের সরকারের আমলে সুবিধা পেত। এই সরকার তা দেবে না।’ যাঁরা সিএএ-তে আবেদন করেছেন, তাঁরাও অনুদান প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।

    ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই মুখমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়ে দিয়েছিলেন, আগের সরকারের কোনও সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ হবে না। বর্তমান সরকার তা এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে এ বার থেকে অনুদান প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়াই স্বচ্ছ ভাবে হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে তিনি বলেছেন, ‘মৃত, অবৈধ এবং ভারতীন নন, এমন নাগরিকেরা কোনও রকম সুযোগসুবিধা পাবেন না।’

    বিহারও এই পথেই এগোচ্ছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার। শুভেন্দুর সুরেই সে রাজ্যের মুুখ্যমন্ত্রী সম্রাট জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা আর কোনও সরকারি সুযোগসুবিধা পাবেন না। তাঁদের রেশন সামগ্রীও দেওয়া হবে না বলেই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে বলেছেন সম্রাট। সে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক চৌধরিও জানিয়েছেন, সংশোধিতা ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখেই রেশনের উপভোক্তার তালিকা থেকে পাঁচ লক্ষ নাম ইতিমধ্যেই বাদ দেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বাংলা এবং বিহারে উপভোক্তাদের নাম বাছাইয়ে যে ভাবে এসআইআর-কে মাপকাঠি করা হচ্ছে, তাতে যোগ্য দরিদ্রেরা বাদ পড়বেন না তো? বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, ভোটার তালিকায় নাম থাকাই কি এখন নাগরিকত্বের প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে? কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘নাগরিকত্ব কি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি, নাকি ভোটার তালিকায় নাম থাকাই নাগরিকত্বের ভিত্তি?’ বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছেও আর্জি জানিয়েছেন জয়রাম। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীও এই সময় অনলাইন-কে বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত নয় তো?’

    পাল্টা বাংলার বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর বলেন, ‘মৃত, স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম কেন বাদ যাবে না? শুধু বিরোধিতা করতে হবে বলে তো যা খুশি তা-ই বলা যায় না। ’

  • Link to this news (এই সময়)