এই সময়, ফলতা: পুনর্নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে ফলতায়। এ বার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন দেবীপুর এলাকার এক দম্পতি। বেশ কয়েক বছর ঘরছাড়া থাকার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের কাছে সুবিচার চাইছেন তাঁরা। তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার, মারধর ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে শাস্তি চাইছেন তাঁরা।
দেবীপুরের বাসিন্দা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার কুন্তল মজুমদার এবং তাঁর স্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষিকা জুলি মজুমদারের অভিযোগ, ২০২২ সালের মার্চ মাসে নাসারিতে মাটি ফেলার জন্য তোলা চাওয়া হয় তাঁদের কাছে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় একদিন বাড়ি থেকে কুন্তলকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তার উপর বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
খবর পেয়ে স্বামীকে উদ্ধার করতে পৌঁছন স্ত্রী জুলি মজুমদার। অভিযোগ, তাঁর উপরেও চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। সেই হামলায় জুলিদেবীর ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় দীর্ঘদিন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দম্পতির অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ করেনি। বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে দাবি তাঁদের।
আতঙ্কে পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে প্রায় দু'মাসের বেশি সময় বাড়ির বাইরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তাঁরা। পরে ডায়মন্ড হারবারে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কিছুটা নিরাপদ বোধ করেই এলাকায় ফিরেছেন কুন্তল জুলি। তবে এতদিন পরও সুবিচার পাননি বলে আক্ষেপ তাঁদের। আগামী ২১ তারিখ ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে এসে জাহাঙ্গির খান ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ও তুলেছেন ওই দম্পতি।
কুন্তল ও জুলি বলেন, 'আমাদের উপরে নির্মম ভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল জাহাঙ্গিরের বাহিনী। ছোট শিশুকে নিয়েই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম। কোনও সুবিচার পাইনি। আশা করি এ বার দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।' কুন্তলের মা তপতী মজুমদার বলেন, 'আক্রান্ত হওয়ার পরেও ছেলে, বৌমা জাহাঙ্গির এবং তার বাহিনীর ভয়ে বেশ কয়েক মাস বাড়িতে ঢুকতে পারেনি। তৃণমূলের লোকজনের অত্যাচার আর মেনে নেওয়া যাচ্ছিল না। আমি বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে বাড়িতে আতঙ্কে দিন গুনেছি। পরে ছেলে বৌমা নাতনিকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেও ভয়ে ভয়ে থেকেছি।'
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফলতায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা বলেন, 'তৃণমূল সাধারণ মানুষের উপরে জুলুম চালিয়েছিল বলেই মানুষ ওদের বিদায় জানিয়েছে। সব দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা হবে।' অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান বলেন, 'এ সব মিথ্যে অভিযোগ। আদৌ কোনও হামলার ঘটনাই ঘটেনি। বিজেপির কথায় ওরা নোংরামি করছে।'