• ৮২ কেমো নিয়ে কঠিন লড়াই, উচ্চ মাধ্যমিকে দশম অদ্রিজা
    আজকাল | ১৪ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেহালার অদ্রিজা। বাগবাজারের রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুলের অদ্রিজা। এবার উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম দশের তালিকায় তাঁর নাম। প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭। অদ্রিজার সাফল্যে বেজায় খুশি পরিবার। খুশি স্কুল। প্রাথমিক উচ্ছ্বাসের পর, অদ্রিজা গিয়েছেন স্কুলে। গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে স্কুল শিক্ষিকা মায়ের মুখে হাসি। চোখের কোণে জল। যদিও মুখে হাসি টেনে মা বলছেন, আনন্দের দিনে সেসব কথা মনে করতে চান না, তবুও। তাঁর মনে পড়ছে বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। অদ্রিজা তখন ক্লাস সিক্স। শরীরে বাসা বাঁধে মারণ রোগ। ধরা পড়ে টি-সেল লিম্ফোমা।

    প্রথম দিকে অবশ্যই অদ্রিজা জানতেন না সেসবের কিছুই। পরিবার যখন দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালাচ্ছে, তখনই এক সময়  অদ্রিজাও বুঝতে পারে, তার লড়াই কেবল পড়াশোনার জন্য নয়, বরং লড়াই আরও কঠিন। টানা কয়েক বছরের  লড়াই মারণ রোগের সঙ্গে। ৮২টি কেমো নিতে হয়েছে। সহজ জীবনে যুক্ত হয়েছে একগুচ্ছ কড়া বিধি-নিষেধ। একদিকে মুম্বইয়ে চিকিৎসা, অন্যদিকে কলকাতার স্কুল। স্কুল শিক্ষক বাবা-মা মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের সঙ্গী হয়েছেন।

    অদ্রিজার উচ্চ মাধ্যমিকে বিষয় ছিল, মনোবিদ্যা, ভূগোল, অর্থনীতি, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন। কীভাবে পড়াশনা মেয়ের? প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কীভাবে? জ্যোতি গণ বলছেন, 'ওকে বাইরে বেশি পাঠাতাম না। অর্থনীতি এবং বাংলা পড়তে যেত বাইরে। বাকি সব অনলাইনেই  পড়ত। বাকি তো ছিলই স্কুল। স্কুল সমস্ত বিষয়ে সাহায্য করেছে। আমার মেয়ে, একদিনও স্কুল কামাই করেনি। তবে আমরা ওকে পড়াশোনার জন্য কখনও চাপ দিইনি। স্কুলেও বলা হতো, আগে শরীরের দিকে নজর দিতে। রাগ জেগে পড়তে পারত না।'

    স্কুল শিক্ষিকা মায়ের কাছে কতটা পড়াশোনা করত মেয়ে? হেসে মা জানাচ্ছেন, 'একেবারেই বেশি নয়। ছোটবেলায় আমার কাছে পড়লেও, বড় হয়ে ইংরেজি ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে খুব একটা পড়ত না আমার কাছে। নিজেই পড়ত, বাকি সমস্ত সাহায্য করেছে স্কুল।' মনের কঠিন লোরাই চালিয়ে বড় হচ্ছেন মেয়ে। উচ্চতর শিক্ষা কোন বিষয়ে? অদ্রিজা জানিয়েছেন, তিনি পড়াশোনা করবেন মনোবিদ্যা নিয়েই।  

     
  • Link to this news (আজকাল)