৬৫-এর পরও আর আহমেদের প্রিন্সিপাল, মেয়ের চাকরিতেও প্রশ্ন, ডা: গিরিকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ NMO-এর
আজ তক | ১৪ মে ২০২৬
আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল তপনকুমার গিরিকে সরিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে ডা: সৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাসকে। তিনি বর্ধমান ডেন্টাল কলেজে কর্মরত ছিলেন।
আর ডা: গিরিকে সরিয়ে দেওয়ার পরই তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবির জয় হয়েছে বলে মনে করছে ন্যাশনাল মেডিকোজ অর্গানাইজেনশ বা এনএমও। এই জাতীয়তাবাদী শিক্ষক চিকিৎসক, চিকিৎসক ও ডাক্তারি পড়ুয়াদের সংগঠনের অভিযোগ, ঐতিহ্যশালী আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের প্রিন্সিপাল হয়ে বছরের পর বছর ধরে বসেছিলেন ডা: গিরি। এমনকী ন্যাশনাল ডেন্টাল কমিশনের নিয়মের বাইরে গিয়ে ৬৫ বছরের পরও তিনি প্রাক্তন শাসকদলের (তৃণমূল কংগ্রেস) সঙ্গে সখ্যতার জন্য প্রিন্সিপাল থেকে গিয়েছন। এখানেই শেষ নয়, তিনি প্রিন্সিপাল থাকার সময়ই তাঁর মেয়ের ওই কলেজেই চাকরি এবং প্রোমোশন হয়েছে বলে দাবি করেছে এনএমও।
এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের সামনে মুখ খুলেছেন এনএমও-র অ্যাডভাইসরি কমিটির মেম্বার এবং ডেন্টাল সার্জেন ডা: অমিত বেরা। তিনি বলেন, 'ডা: গিরি প্রায় ১০ বছর বা তারও বেশি সময় এই কলেজে প্রিন্সিপাল ছিলেন। উনি তৃণমূল সরকারের সময় এই পদে এসেছিলেন। কিন্তু উনি ফুল টাইমার প্রিন্সিপাল ছিলেন না। পার্মানেন্ট প্রিন্সিপালের কোনও বিজ্ঞাপন আগের সরকার বের করেনি। এনার কোনও ইন্টারভিউ হয়নি। উনি ছিলেন মনোনিত প্রিন্সিপাল।'
এখানেই শেষ না করে ডা: বেরা জানান, ৬৫ বছর বয়সের পর আর এক্সটেনশন পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু ডা: গিরির ক্ষেত্রে এক্সটেনশন হয়। উনি একই কলেজে প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, 'এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। আমাদের যে ন্যাশনাল ডেন্টাল কমিশন আছে, তার নিয়ম অনুযায়ী ৬৫-এর পরে কিন্তু প্রিন্সিপাল বা প্রফেসর থাকা যায় না। উনি ছিলেন। এটা ছিল নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ।'
মেয়েকে নিয়ে কী অভিযোগ?
এনএমও জানায়, ডা: গিরির মেয়ের চাকরি এবং প্রমোশনও হয়েছে অদ্ভুতভাবে। এই প্রসঙ্গে ডা: বেরা বলেন, 'ওনার মেয়ে বেসরকারি কলেজে বিডিএস এবং এমডিএস করেছেন। অর্থাৎ আন্ডার গ্র্যাজুয়েটও প্রাইভেটে এবং মাস্টার ডিগ্রিও প্রাইভেটে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পড়ে অদ্ভুতভাবে ২০১৬ সালে হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের এডুকেশন সার্ভিসে সেকেন্ড র্যাঙ্ক হয়ে যায় তার। মানে প্যানেলে ওনার মেয়ের র্যাঙ্ক হয় সেকেন্ড। কীভাবে এইচআরবি-র মাধ্যমে প্রাইভেট কলেজে পড়াশোনা করা ওনার মেয়ে চান্স পেয়ে ঢুকে পড়লেন? চাকরি পেলেন আর আহমেদে?'
এখানেই শেষ না করে ডা: বেরা আরও অভিযোগ করেন, 'অদ্ভুতভাবে তারপরে যখন আবার প্রমোশন হল, সেটা হল একদম ঢিল ছোড়া দূরত্বে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ। অথচ বহু ক্যান্ডিডেটকে দূরে দূরে পাঠানো হল। শুধু ওনার মেয়েকে ওখানে রাখার জন্য। এরপর তাঁর মেয়েকে ক্লিনিক্যাল টিউটর থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরও করা হল নিয়মের বাইরে গিয়ে। তারপর যখন প্রমোশন হল, তখন ওই নীলরতন সরকারেই ওনার মেয়ে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হয়ে গেল। তার ঠিক দু-সপ্তাহের মাথায় আর একটা অর্ডার বের করে ওনার মেয়েকে নিয়ে চলে আসা হল আর আহমেদ ডেন্টাল হাসপাতালে। অথচ সেই অর্ডার ওয়েবসাইট থেকে ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছে।'
এখানেই শেষ নয়, আর আহমেদে এখন যে ডিপার্টমেন্টে ওনার মেয়ে রয়েছে, সেখানে ওনার থেকে সিনিয়র লোক থাকা সত্ত্বেও, ওনার মেয়েকে ওখানে হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট করে রেখে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডা: বেরা।
যদিও বর্তমানে ডা: গিরিকে সরিয়ে দেওয়ায় খুশি এনএমও। তাঁরা নতুন প্রিন্সিপালকে স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি নতুন সরকারের কাছে তাঁর আর্জি, নিয়োগের ক্ষেত্রে যেন স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। এছাড়া নতুন সরকার কোনও বিষয়ে তাদের মতামত চাইলে তারা দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ডা: বেরা। তবে এই বিষয়টা নিয়ে ডা: গিরিকে ফোন করা হলেও তিনি উত্তর দেননি।