ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আইন সবার জন্য সমান! অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কী বললেন শমীক?
প্রতিদিন | ১৪ মে ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, ভোটে জেতার তিন মাসের মধ্যে লাগু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। খুব তাড়াতাড়ি বাংলাতেও হয়তো চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠকে সেকথাই জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শমীক জানান, রাজ্য সরকার যেদিন মনে করবে সেদিনই বাংলায় চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। কারণ, আইনের চোখে সকলেই সমান। কেউই আলাদা নন। বলে রাখা ভালো, অমিত শাহ একাধিকবার সারা দেশে ইউসিসি (UCC) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পক্ষে সওয়াল করেছেন। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির ফলে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ-সহ সমস্ত ধর্মের মানুষ এক পারিবারিক ও উত্তরাধিকার আইনের আওতায় পড়বে। আইন এক হওয়ায় শাস্তিও এক হবে। বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত পৃথক আইন। সে কারণে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর ভাবনা। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেছিলেন, তাঁদের নিজস্বতা বজায় রাখার জন্য এই আইনের আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছে আদিবাসীদের। তবে বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে কীভাবে এই নিয়মকে ‘অভিন্ন’ বলে দাবি করা হয়।
যদিও ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং গুজরাটে চালু হয়ে গিয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। কিন্তু আদিবাসী জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে অসমের বিধি তৈরি করছে হিমন্তের সরকার। বুধবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাহাড় এবং সমতলের প্রত্যেক আদিবাসী গোষ্ঠীকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বাইরে রাখা হয়েছে। অসমের মানুষের ঐতিহ্য এবং রীতিনীতিকেও বাদ দেওয়া হয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি থেকে। মন্ত্রিসভায় পাশ হওয়ার পরে চলতি মাসের শেষদিকেই বিধানসভায় পেশ হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া বিল। এবার দেখার বাংলায় কবে চালু হয় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি।