জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি, ফতেপুর, বদায়ূঁ, চান্দৌলি, শোনভদ্র- এই পাঁচ জেলায় প্রবল প্রকোপ দেখা গিয়েছে ঝড়ের। মাটির বাড়ি মুহূর্তে ভেঙে পড়েছে। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই উপড়ে যাচ্ছে গাছ! সর্বত্র ধ্বংসের চিহ্ন। একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, একজন মানুষ ঝড়ের ধাক্কায় আকাশে উড়ছে। যা দেখে আঁতকে উঠেছেন নেটিজেনরা। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম নানহে মিয়াঁ। তিনি সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ঝড় তাঁকে আশি ফুট উঁচুতে তুলে দিয়েছিল। হাড় ভাঙলেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, আপাতত এটা ভেবেই স্বস্তি পাচ্ছেন তিনি।
উত্তরপ্রদেশের এই দুর্যোগ সাধারণ বিকেলের বৃষ্টি নয়। এটা অত্যন্ত দ্রুতগতির এক প্রবল ঝড়। যা মূলত তাপের পরিচলনের জন্য হয়ে থাকে। আকাশের বুকে ভাসমান এক বিশাল তাপ-ইঞ্জিন কল্পনা করা যেতে পারে। যার চালিকাশক্তি হল নিচের তপ্ত ভূখণ্ড এবং উপরের অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাসের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য। আরও সহজে বললে, মে মাসে উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল এমন তেতে ওঠে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। সেই অত্যধিক উত্তপ্ত বাতাস তখন দ্রুতগতিতে উপরের দিকে উঠে যায়, তাকে বলা হয় পরিচলন প্রক্রিয়া। আর এমনটা ঘটার সময় অন্যান্য দিক থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল ও আর্দ্র বাতাস ছুটে আসতে থাকে। এই সংঘর্ষের ফলে সুউচ্চ ঝোড়ো মেঘের সৃষ্টি হয়, যা ‘কিউমুলোনিম্বাস’ নামে পরিচিত। আর এই মেঘগুলিই মূলত বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি এবং প্রবল ঝোড়ো বাতাসের জন্য দায়ী। আর এমনই এক ঝড়ে কার্যতই লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের বহু জেলা।