• ‘এ বছর মেডিক্যাল পাবই…’, NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে মর্মান্তিক মোড়, ছেলের ঘর খুলে বাবা-মা দেখল...
    এই সময় | ১৪ মে ২০২৬
  • এর আগে আরও দু’বার NEET-UG পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। আশানুরূপ ফল হয়নি। তাই ২০২৬ সালে তৃতীয়বারের জন্য এই পরীক্ষায় বসেছিলেন। পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। এ বার ভালো স্কোর হবে বলে নিশ্চিত ছিলেন তিনি। কিন্তু আচমকা বিনা মেঘে বজ্রপাত। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার জেরে পরীক্ষা বাতিল। এই ধাক্কাটাই মন থেকে মেনে নিতে পারেননি ২১ বছরের হৃত্বিক মিশ্র। এমনটাই অভিযোগ। বুধবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির এই তরুণ।

    বৃহস্পতিবার এক মর্মান্তিক মোড় নিল NEET-UG কেলেঙ্কারি। এ দিন সকালে হৃত্বিকের ঘর থেকেই তাঁর গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর পরিবারের দাবি, তৃতীয় প্রচেষ্টায় খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। এ বার মেডিক্যাল সিট পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ওই তরুণ। কিন্তু পরীক্ষা বাতিল এবং ফের পরীক্ষা দিতে হবে শোনার পর থেকেই তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

    তাঁর বাবার দাবি, প্রশ্নফাঁসের খবরের পরে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক ক্লান্তিতে ভুগেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন তাঁর ছেলে। হৃতিকের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও জানিয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।

    মঙ্গলবার রাতে গোয়াতেও এক NEET পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে পরীক্ষা বাতিলের কোনও যোগ রয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

    পরপর NEET পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। গোয়ার ঘটনার উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন AAP প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    বর্তমানে এই কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে CBI। পরীক্ষা বাতিল বলে ঘোষণা করা হলেও, নতুন করে কবে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তার তারিখ এখনও জানানো হয়নি। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী অপেক্ষায় রয়েছেন। উদ্বেগ বাড়ছে তাঁদের।

    মনোবিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদরা একযোগে বলছেন, বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার পরে এই অনিশ্চয়তা ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক ভয়ঙ্কর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তাঁদের মতে, অবিলম্বে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। না হলে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)