• ভরদুপুরে মুর্শিদাবাদের সোনার দোকানে ভয়াবহ ডাকাতি, গ্যাংয়ে মহিলা সদস্যও, তদন্তে পুলিশ
    এই সময় | ১৪ মে ২০২৬
  • ভরদুপুরে জনবহুল এলাকায় ডাকাতি মুর্শিদাবাদের রতনপুরের ‘Senco Gold’ শোরুমে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। খরিদ্দার সেজে দোকানে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী দল। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    ​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ দিন দুপুরে এক মহিলা ক্রেতা সেজে দোকানে ঢোকেন। তিনিও দুষ্কৃতী দলের সদস্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও কয়েকজন দোকানে প্রবেশ করে। ভিতরে ঢুকেই আচমকা তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র বের করে দোকানের কর্মী ও গ্রাহকদের উপরে চড়াও হয়।

    দোকানের নিরাপত্তারক্ষীর অভিযোগ, তাঁর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সবাইকে এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। এর পরে চিৎকার করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চোখের নিমেষে কাউন্টার ও ডিসপ্লে কেস থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না ব্যাগে ভরে চম্পট দেয় তারা। ​খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সামশেরগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পৌঁছন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পদস্থ কর্তারাও।

    পুলিশ জানিয়েছে, গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নাকা তল্লাশি শুরু হয়েছে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ​প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ডাকাতি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। দুষ্কৃতীরা দোকানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল ছিল। ঠিক কী পরিমাণ সোনা বা নগদ টাকা লুট হয়েছে, তা এখনও খতিয়ে দেখছেন কর্তৃপক্ষ।

    তবে দিনের আলোয় এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরিন্দর সিং জানান, পাঁচ জন পুরুষ ও এক জন মহিলা দুটো মোটরবাইকে চড়ে এসে দোকানের সামনে নামেন। গ্রাহক সেজে দোকানের ভেতরে ঢুকেছিল। সেই সময়ে এক জন নিরাপত্তারক্ষী দুপুরের খাবার খেতে ব্যস্ত ছিলেন। সকলকে পিস্তল দেখিয়ে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখে হাতের সামনে যত সোনার গয়না ছিল নিয়ে পালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গোটা অপারেশন সারতে ৮-১০ মিনিট সময় নিয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।’

  • Link to this news (এই সময়)