পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছেন। তবে দেশের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলিকে তিনি সাধারণ মানুষের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দায়িত্বও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার কড়া পদক্ষেপ করেছে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার।
জ্বালানি সাশ্রয়ে রাজ্যের বড় শিল্প সংস্থা, আইটি সংস্থা এবং স্টার্টআপগুলিকে জন্য সপ্তাহে দু’দিন করে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এবং প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলপড়ুয়াদের অনলাইন ক্লাসের মতো কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই কড়াকড়ি কি সত্যিই কোনও পার্থক্য গড়ে দেবে? এই সব বিধিনিষেধ মেনে কতটা সাশ্রয় হতে পারে?
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ৫০ জনের বেশি কর্মী আছে যে সকল প্রতিষ্ঠানে, সেগুলিকে সপ্তাহে দু’দিন করে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ অর্থাৎ, বাড়ি থেকে কাজ করা চালু করতে হবে।
পাশাপাশি, মন্ত্রীদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে। সরকারি আধিকারিক এবং মন্ত্রীদের সপ্তাহে অন্তত একদিন মেট্রো, বাস বা ই-রিকশার মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
আন্তঃজেলা সমস্ত বৈঠক এবং রাজ্য সচিবালয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ বৈঠক এখন থেকে হাইব্রিড বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে হবে। এ ছাড়া, সরকারি কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য সপ্তাহে একটি ‘নো ভেহিকেল ডে’ অর্থাৎ, যানবাহনহীন দিন পালনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, স্টেট ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল টেকনোলজি বা SIET-এর সাহায্যে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য দীক্ষা (DIKSHA) নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এটি পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ এবং ডিটিএইচ চ্যানেলে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবে পড়ুয়ারা। এখানে রেকর্ড করা ক্লাস করার সুযোগ পাবে তারা।
আসল প্রশ্নটা হলো, এই এত কঠোর সব পদক্ষেপ করে কতটা লাভ হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, টাকার অঙ্কে এই পরিকল্পনা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক।
নয়ডা, গাজ়িয়াবাদ, লখনৌ এবং কানপুরের মতো শহরে অফিসযাত্রীরা দিনে গড়ে ১৫ থেকে ২৫ কিলোমিটার যাতায়াত করেন। পেট্রোলের দাম ১০৫ টাকা প্রতি লিটার ধরলে প্রতিদিন যাতায়াতে এক-একজনের প্রায় ১৭৫ টাকা খরচ হয়। সপ্তাহে দু’দিন যদি তারা বাড়িতে বসে কাজ করে তা হলে প্রত্যেক কর্মী পিছু মাসে প্রায় ১৪০০ টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
হিসেব বলছে, নয়ডা-গাজ়িয়াবাদে প্রায় এক লক্ষ আইটি কর্মী আছেন। অর্থাৎ, শুধুমাত্র তাঁদের যাতায়াত কমলেই মাসে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। উপরি পাওনা হিসেবে শহরের দূষণও কমবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ এও বলছেন যে, সরকারি নির্দেশিকা জারি করা আর তা বাস্তবায়িত করার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। নির্দেশ জারি করলেই যে গাজ়িয়াবাদের কোনও পরিবারে সপ্তাহে দু’দিন গাড়ি বন্ধ থাকবে, বা লখনৌয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র মন দিয়ে অনলাইনে ক্লাস করবে তা হতে পারে না। আদতে এই নীতি বা পরিকল্পনা সফল হওয়াটা পুরোপুরি নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের উপরে।