দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় মোড়। আইনি ধাক্কার মুখে আম আদমি পার্টির (AAP) শীর্ষ নেতারা। বৃহস্পতিবার, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিং, বিনয় মিশ্র এবং সৌরভ ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার (Criminal Contempt Action) অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা। তবে একইসঙ্গে বিচারপতি জানিয়ে দিয়েছেন, মূল আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়ালদের অব্যাহতির বিরুদ্ধে CBI যে রিভিশন পিটিশন করেছে, যার শুনানি এতদিন তাঁর এজলাসেই চলছিল, সেই মামলার শুনানি তিনি আর করবেন না।
এ দিন আদালত অবমাননার রুল জারি করার সময়ে বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা অত্যন্ত কড়া ভাষায় আপ নেতাদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘অরবিন্দ কেজরিওয়াল সুপরিকল্পিত ভাবে কুৎসা করেছেন।’ বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে এই পরিকল্পিত কুৎসা শুধুমাত্র তাঁর বিরুদ্ধে নয়, বরং সমগ্র বিচারব্যবস্থা এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই করা হয়েছে।’
উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে তাঁর দেওয়া একটি বক্তৃতা ভিডিয়ো ‘এডিট’ করে বা বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিচারপতি। তাঁর মতে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল-মণীশ সিসোদিয়াদের এই আচরণ ‘আদালত অবমাননা আইন’-এর ২-এর গ (2C) ধারার অধীনে ফৌজদারি অপরাধের শামিল।
আপ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরুর পাশাপাশি মূল মামলা, অর্থাৎ, দিল্লি আবগারি দুর্নীতি মামলায় আপ নেতাদের অব্যাহতি দেওয়ার বিরুদ্ধে CBI-এর রিভিশন পিটিশনের শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বিচারপতি। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী যে বিচারপতি আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করেন, তিনি মূল মামলার শুনানি করতে পারেন না।
তিনি বলেন, 'এই প্রতিষ্ঠানকে (বিচারব্যবস্থাকে) রক্ষা করার জন্য আমাকে রুখে দাঁড়াতেই হতো এবং আমি তা করেছি। এই মামলাটি এখন অন্য কোনও বেঞ্চে শোনা হবে।'
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে বিচারব্যবস্থার উপরে সংগঠিত ভাবে চাপ সৃষ্টির যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, আদালতের এই রুল জারি আসলে তারই বিরুদ্ধে একটি কড়া বার্তা বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে এই প্রক্রিয়ার জেরে আবগারি দুর্নীতি মামলা এ বার কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।