নতুন সরকার গঠনের পরেই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে ধর্মীয় স্থানে মাইক বাজানো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। শব্দসীমা অতিক্রম করে মাইক বাজানো যাবে না— বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন কমিশনারেটের সিপিদের সঙ্গে বৈঠকে এ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও ধর্মীয় স্থান থেকেই এমন ভাবে মাইক বাজানো যাবে না, যাতে শব্দসীমা নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশিকা কার্যকর করতে হবে পুলিশকে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের সামনে মাইক বাজিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা যাবে না। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রাক্তন মুখ্য আইন আধিকারিক তথা পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় এ দিন জানান, মহরম থেকে রামনবমী— বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তারস্বরে মাইক থেকে এবং ডিজের দাপট সবাই দেখেছে। সরকার সব ক্ষেত্রে আইন কার্যকর করতে উদ্যোগী হলে তাকে অবশ্যই স্বাগত।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০০০ সালেই কলকাতা হাইকোর্ট একটি নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশিকায় জানানো হয়– ভোর ৬টার আগে এবং রাত ১০টার পরে কোথাও প্রকাশ্যে মাইক বাজানো যাবে না। দিনের বাকি সময়ে মাইক বাজাতে হলে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে। তবে সে ক্ষেত্রেও সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। দিনের বেলা শিল্পাঞ্চলে শব্দসীমা ৭০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৬৫ এবং আবাসিক এলাকায় ৫৫ ডেসিবেলের বেশি হবে না। সেই নির্দেশিকা যাতে কঠোর ভাবে মানা হয়, সে ব্যাপারে এ দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও আরও একটি বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। এ দিনের বৈঠকে জানানো হয়, যত্রতত্র পশুবলি বা আইন বহির্ভূত ভাবে পশুহত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কলকাতা হাইকোর্ট আগেই জনসমক্ষে পশুহত্যা এবং বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পশুবলি নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশও কঠোর ভাবে কার্যকর করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্দিষ্ট অনুমোদিত জায়গা ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না। কেউ আইন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানাচ্ছে সরকারি মহল।
রিপোর্টিং: সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়