বিধাননগরে অনুমতি ছাড়া ১৪টি বহুতল! হাই কোর্টে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পুরনিগমের
প্রতিদিন | ১৫ মে ২০২৬
বেআইনি নির্মাণ নিয়ে রাজ্যের কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্তের আবহে বিধাননগর পুরনিগমে একই ওয়ার্ডের ১৪টি বেআইনি বহুতল নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট জমা পড়ল কলকাতা হাই কোর্টে। জানা গিয়েছে, ওই নির্মাণগুলির কোনটি পাঁচতলা। কোনটি আবার তিনতলা থেকে চারতলার নির্মাণ। জলাভূমি ভরাট করে ওই নির্মাণগুলি গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করে হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলাতেই রিপোর্ট জমা দিয়ে পুরনিগম জানিয়েছে, অন্তত ১৫ থেকে ২০টি এমন নির্মাণ কোনরকম অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে।
আপাতত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই জমিগুলির চরিত্র সম্পর্কিত রিপোর্ট ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। অর্থাৎ যে জমিগুলির উপর নির্মাণ গড়ে উঠেছে সেগুলি বাস্তু না জলাভূমি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে তা জানাতে হবে বিএলআরওকে। প্রসঙ্গত, বুধবারই তপসিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, শহর কলকাতার সমস্ত অবৈধ নির্মাণের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। কেটে দেওয়া হবে জলের লাইনও। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই ঘোষণার দিন কয়েক আগেই কলকাতার ঠিক পাশের শহর বিধাননগরে একাধিক নির্মাণ বেআইনি বলে চিহ্নিত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিধাননগর পুরনিগম।
বিধাননগরের বেআইনি নির্মাণ মামলার মামলাকারী সাবির আলী মণ্ডলের অভিযোগ ছিল, বিধাননগর পুরনিগমের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে যথেচ্ছ হারে জলাভূমি বুঝিয়ে একের পর এক নির্মাণ গড়ে উঠেছে। মামলার বয়ানে আরও উল্লেখ, জমিগুলি শালী বা ডোবা জমি হিসাবে নথিভুক্ত হলেও সেগুলি বেআইনিভাবে প্রথমে বুঝিয়ে ফেলা হয়। তারপর পুরনিগমের কোনো অনুমতি ছাড়াই একের পর এক বেআইনি বহুতল গড়ে উঠেছে। মামলাকারীর অভিযোগ, আটঘরা মৌজায় অন্তত এরকম ১৪ টি নির্মাণ রয়েছে যার কোনটি ছ’তলা কোনটি আবার পাঁচতলা নির্মাণ। শুধু তাই নয়, নির্মাণ গুলির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ইতিমধ্যেই কোনোটিতে চালু হয়ে গিয়েছে প্রসিদ্ধ বিরিয়ানির চেনের শাখা। কোনটিতে চলছে বড় হোটেল ও গাড়ির শোরুম। কোন নির্মাণ আবার আবাসন হিসেবে তৈরি হয়েছে।