• ‘মাঠ আবার আমাদের...’, নির্বাচনে ভরাডুবির পরে কর্মীদের উদ্দেশে প্রথম বার্তা অভিষেকের
    এই সময় | ১৫ মে ২০২৬
  • নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। পতন ঘটেছে ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের। নির্বাচনের হারের পরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন দলীয় নেতা সরাসরি আঙুল তুলেছেন তাঁর নেতৃত্বের দিকে। ফলপ্রকাশের ১০ দিন পরে, বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি দলের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন এক ভিডিয়ো বার্তায় কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির চেষ্টার পাশাপাশি BJP ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি।

    ভিডিয়ো বার্তায় অভিষেক অভিযোগ করেন, গণনার দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ১০০-র বেশি আসনে তৃণমূলের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। যে অভিযোগ গণনার দিনেই শোনা গিয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে।

    অভিষেকের দাবি, অনেক জায়গাতেই যেই ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ করা হয়েছে, আর কাউন্টিং টেবিলে যে ইভিএম আনা হয়েছে, তার সিরিয়াল নম্বর মেলেনি। এই বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করতে গেলে নাকি তাঁদের কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘লুট করে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা বেশিদিন টিকবে না।’ তিনি আরও জানান, গণনার দিন যে কারচুপি হয়েছে তার উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ নিয়ে শিগগিরই আদালতের দ্বারস্থ হবে তৃণমূল কংগ্রেস।

    ভিডিয়ো বার্তায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান অভিষেক। তাঁর দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসায় তৃণমূলের ১০ জন কর্মীর প্রাণ গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁদের সকলের নামও উল্লেখ করেন।

    অভিষেক বলেন, ‘এই লড়াই এক অগ্নিপরীক্ষা।’ তাঁর দাবি, ভোটের পরে BJP-র অত্যাচারে বহু তৃণমূল কর্মী নাকি ঘরছাড়া। তাঁদের বাড়ি ফেরাতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    পাশাপাশি তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, এলাকাছাড়া তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ফেরাতে প্রশাসন যদি সহযোগিতা না করে, তা হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে সরাসরি তাঁকে তা জানাতে। জেলা ও ব্লক নেতৃত্বকে এই ঘরছাড়াদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রত্যেকটি হামলার ঘটনায় থানায় FIR-ও করতে বলেছেন তাঁদের।

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে অভিষেক বোঝাতে চেয়েছেন নির্বাচনে ভরাডুবির পরেও হার মানতে তিনি নারাজ। মাঠ এবং আইনি লড়াই— দু’দিকেই সমানতালে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। এই বার্তা দিয়ে নির্বাচনের পর মুষড়ে পড়া কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেন তিনি। এতে কতটা কাজ হয়, এখন সেটাই দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)