রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সংসদীয় রণকৌশল ঠিক করতে কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের নিয়ে হওয়া এই বৈঠকে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলে তৃণমূল নেতৃত্ব। মমতা দাবি করেন, দেশে বর্তমানে সুপার এমার্জেন্সির মতো পরিস্থিতি চলছে।
বৈঠকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গণনার দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে এবং প্রার্থীদের পরিচয়পত্র পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
অভিষেক আরও দাবি করেন, ভোটে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ইভিএম ও ১৭-সি ফর্মের হিসাবে গরমিল ছিল। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ইভিএমের ব্যাটারি ৯০ শতাংশের বেশি চার্জড দেখানো হয়েছে। বিজেপির লোকজন সিআরপিএফের পোশাক পরে হামলা চালিয়েছে বলেও দলের কাছে তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, গণনার প্রথম কয়েক রাউন্ডেই বিজেপিকে অস্বাভাবিকভাবে এগিয়ে দেখিয়ে এজেন্টদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল। ভবানীপুরে ডিআইসিওদের গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া এবং মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয় বৈঠকে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ফল মেনে নিলেও রাজনৈতিক লড়াই যে শেষ হয়নি, কালীঘাটের বৈঠক থেকে সেই বার্তাই দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।