• ডিজে বন্ধ করে পথে নামুন, তৃণমূল নেতাদের কটাক্ষ শমীকের
    এই সময় | ১৫ মে ২০২৬
  • এই সময়: ভোট পরবর্তী আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ রকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কী ভাবে দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হয়, সেই পাঠ–ই বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেতৃত্বকে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ঘরে বসে ভাষণ না দিয়ে তাঁদের পথে নামার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ দিকে, এ দিন–ই কালীঘাটে দলীয় সাংসদদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, দলীয় নেতৃত্ব নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না।

    গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে। তারপর থেকেই বেশ কিছু জেলায় তৃণমূল নেতা–কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। যদিও পদ্ম শিবিরের দাবি, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে তৃণমূলের–ই পার্টি অফিস দখল করছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীকের দাবি, ‘চার তারিখ দুপুর বারোটার পরে অনেকে বিজেপি হয়েছে। তাঁরাই এ কাজ করছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।’ এই ‘হঠাৎ বিজেপি’দের যে কোনও ভাবে রেয়াত করা হবে না, সেটা বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে দফায় দফায় স্পষ্ট করেছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এ বিষয়ে সদর্থক বার্তা দিতে, তৃণমূ‍লের পার্টি অফিস ভাঙার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও করেছে।

    কিন্তু শমীকদের মতে, শাসক থেকে বিরোধী শিবিরে চলে যাওয়া তৃণমূল কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায় শুধু বিজেপির নয়। জোড়াফুল শিবিরের নেতা–নেত্রীদেরও নড়েচড়ে বসার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন তাঁরা। এ দিন তৃণমূল নেতৃত্বর উদ্দেশে শমীক দিল্লিতে বলেন, ‘আপনারা বাড়ি থেকে আগে বেরোন তো! কর্মীরা মার খাচ্ছে, আর আপনারা ঘরের মধ্যে ঢুকে বিবৃতি দিচ্ছেন! তাঁদের বাঁচানোর দায়িত্ব আপনাদেরও।’ তাঁর খোঁচা, ‘এতদিন আপনারা ডিজে বাজাচ্ছিলেন। এখন ডিজে বন্ধ করে বাড়িতে বসে ভাষণ দিচ্ছে‍ন!’ বিজেপি রাজ্য সভাপতির পরামর্শ, ‘ঘরে বসে রাজনৈতিক ধারাভাষ্য দিয়ে লাভ নেই। হিংসা বন্ধ করতে হলে তৃণমূল নেতাদের পথে নামতে হবে।’

    তবে এই ভোট পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যে বিজেপির কোনও যোগসূত্র নেই, সেটা এ দিনও ফের স্পষ্ট করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, ‘মারছে তৃণমূল, মরছে তৃণমূল—এটাই চলছে বাংলা জুড়ে।’ বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের যারা বিজেপিতে এসে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছেন, তাদের সতর্ক করে শমীক বলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার চার ঘণ্টার মধ্যে যারা হঠাৎ করে বিজেপি হয়েছে, তারা কেউ দলের নয়। চার তারিখ থেকে যারা বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েছে, তাঁরা কেউ বিজেপি কর্মী নয়। এদের পাশে দল নেই। প্রত্যেককে চিহ্নিত করুন। পুলিশ দিয়ে তুলিয়ে দিন। বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়ন নেই, ছাত্র সংগঠন নেই। বিজেপি নিজস্ব গঠনতন্ত্রের উপর চলে।’ গত ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার দিনই শমীক জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিজেপিতে যোগদান পর্ব আপাতত বন্ধ। এ দিন সে কথা আরও একবার স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ বিজেপিতে ঢুকতে পারবেন না এখন। পরে যদি পার্টি কাউকে সদস্য করার কথা মনে করে, তখন দেখা যাবে।’

    বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরে তৃণমূল নেতৃত্বর নীরবতা প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে। ঘনিষ্ঠ মহলে জোড়াফুল শিবিরের অনেকেই বলছেন, জেলায় জেলায় কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছে‍‍ন, অথচ রাজ্য নেতৃত্ব তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন না। তৃণমূল কর্মীদের সেই ক্ষোভ আরও উসকে দিয়েছে শমীকের এ দিনের বার্তা। বিজেপি রাজ্য সভাপতি বক্তব্যের সঙ্গে সহমত তৃণমূলেরও অনেকে। জেলাস্তরের এক জোড়াফুল নেতার কথায়, ‘শমীক ভট্টাচার্য তো ঠিকই বলেছেন। ঘরে বসে বিবৃতি না দিয়ে আমাদের দলের নেতাদের রাস্তায় নামা উচিত। তাতে কর্মীদের মনোবল বাড়বে।’

    যদিও এ দিন কালীঘাটে তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট–পরবর্তী হিংসার জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছেন। বৈঠক শেষে দলের এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, ‘বিজেপির জন্যই বাংলা জ্বলছে। গত কয়েক দিনে হিংসা, আতঙ্ক এবং অরাজকতা গোটা রাজ্যকে গ্রাস করেছে। অথচ ক্ষমতা যাঁদের হাতে তাঁরা মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন। আমরা নীরব দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নই। আক্রান্তরা বিচার পাবেন। সব ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচিত হবে। অপরাধীদের জবাবদিহি করতেই হবে। আর সত্যের জয় না হওয়া পর্যন্ত, আমাদের লড়াই চলবে।’ বর্ষীয়ান বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের দাবি, ‘এ বারের বিধানসভা ভোটের ফল উল্টো হলে এতদিনে কয়েকশো বিজেপি কর্মী খুন হয়ে যেতেন।’

  • Link to this news (এই সময়)