একাধিক রাজ্যে সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ, ভার্চুয়াল বৈঠকের নির্দেশ
বর্তমান | ১৫ মে ২০২৬
নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আঁচ ভারতেও। রান্নার গ্যাসের পর পেট্রল-ডিজেলেরও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারের উপর চাপ কমাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর আহ্বানের পর কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটতে শুরু করেছে একাধিক রাজ্য। সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমানো, ভিআইপি কনভয়ের আকার ছোটো করা, অনলাইন বৈঠকে জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গণপরিবহণ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে শুরু করেছে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ত্রিপুরার মতো রাজ্য। নেওয়া হয়েছে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের মতো পদক্ষেপও। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে বৃহস্পতিবার দেখা গিয়েছে মোটবাইক চড়তে। ট্রেন এবং সাইকেল ব্যবহার করেছে গুজরাতের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত।
বৃহস্পতিবার দিল্লি সরকারের নির্দেশে বলা হয়েছে, করোনাকালের মতো সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করতে হবে কর্মীদের। শুধু তাই নয়, অফিসের যাতায়াতে সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে ৫০ শতাংশে। বৈঠকও ভার্চুয়ালি করার নির্দেশ দিয়েছে রাজধানীর ডাবল ইঞ্জিন সরকার। একই পথে হাঁটছে দিল্লির পুরনিগম। সাধারণ মানুষকেও উৎসাহ দিতে সপ্তাহে একদিন ‘মেট্রো ডে’ এবং একদিন ‘নো কার ডে’ পালনের আহ্বান জানিয়েছে রেখা গুপ্তার সরকার। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
অযথা জ্বালানির ব্যবহার কমাতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান সরকারও। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি আধিকারিকদের বিমান সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে ভার্চুয়াল বৈঠক শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে বৈদ্যুতিন গাড়ি ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ‘কেমিকেল ইঞ্জিন ফ্রি ডে’ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা তাঁর কনভয়ে মাত্র পাঁচটি গাড়ি রাখছেন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ১৩ থেকে কমিয়ে ৮টি করেছেন। গুজরাতের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত এদিন ট্রেনে করে কুরুক্ষেত্রে যান। সেখান থেকে সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছান। ত্রিপুরা সরকারও কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করেছে। জ্বালানি কমানোর পথে হেঁটেছে তেলেঙ্গানা সরকারও। এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা তাঁর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন।