• নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ে কেন বাদ প্রধান বিচারপতি? কেন্দ্রকে প্রশ্ন করল সুপ্রিম কোর্ট
    বর্তমান | ১৫ মে ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: সিবিআইয়ের ডিরেক্টর নিয়োগের কমিটিতে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। তিনিই আবার স্থান পাননি নির্বাচন কমিশনারকে বেছে নেওয়ার প্যানেলে । কিন্তু, কেন? এমনই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগ মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, সিবিআই ডিরেক্টর নিয়োগে প্রধান বিচারপতি রয়েছেন। আমরা বলতেই পারি, এই নিয়োগের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যুক্ত। যুক্তি আরও প্রসারিত করে আইনের শাসনের কথাও বলা যেতে পারে। কিন্তু, গণতন্ত্র রক্ষা কিংবা স্বচ্ছ্ব ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কী হবে? এখানেই থামেননি তিনি বিচারপতি দত্ত। তাঁর কথায়, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতিকে প্যানেলে রাখতেই হবে, একথা আমরা বলছি না। কিন্তু, কমিটিতে কেন নিরপেক্ষ সদস্য থাকবেন না? কেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকেই একজনকে প্যানেলে রাখতে হবে? একটা কথা পরিষ্কার বলতে চাই। আজ, প্রধানমন্ত্রী একজনকে বেছে নিলেন। কিন্তু, লোকসভার বিরোধী দলনেতার পছন্দ অন্য কেউ। বর্তমান নিয়মে কমিটির তৃতীয় সদস্য কি কখনও বিরোধী দলনেতাকে সমর্থন করবেন? বিচারপতির এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটারামানি। তিনি জানান, বাস্তবে তা নাও হতে পারে। তবে আমি দ্বিতীয় কোনো অনুমান করব না। পালটা বিচারপতি দত্ত বলেন, তার মানে সরকারই সবটা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে ধরে নিয়ে হয়। নয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্যানেলে তিনজন সদস্য রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সরকার অনেকটাই অ্যাডভান্টেজ পেয়ে যায়। এই বিষয়টি শীর্ষ আদালতেরও নজর এড়ায়নি। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এধরনের নিয়োগের জন্য প্যানেলের তিনজনের মধ্যে দু’জনের সমর্থন দরকার পড়ে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা ভিন্ন মত পোষণ করলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর  সরকারের বিরুদ্ধ মত পোষণের সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিচারপতি আরও বলেন, যে বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে, তা হল এক্ষেত্রে প্রশাসনিক ভেটো ক্ষমতা রয়েছে কেন? বিভিন্ন সব নজির থাকার পরও সংসদ কি এব্যাপারে অবগত ছিল না।
  • Link to this news (বর্তমান)