রাহুল গান্ধীর ৫৪ বার বিদেশ ভ্রমণের টাকা আসে কোথা থেকে? পালটা প্রশ্ন বিজেপির
বর্তমান | ১৫ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাহুল গান্ধী ২২ বছরে ৫৪ বার বিদেশ সফর করেছেন। ব্যয় হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। এত বিপুল অঙ্কের টাকা কোথা থেকে পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা? প্রশ্ন তুলল বিজেপি। দলের মুখপাত্র তথা এমপি সম্বিত পাত্র বৃহস্পতিবার রাহুলকে কাঠগড়ায় তুলে বলেছেন, ‘বিগত ১০ বছরে রাহুলের আয় দেখানো হয়েছে ১১ কোটি টাকা। কিন্তু ২২ বছরে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় করলেন কীভাবে? বিশেষ করে ২০১৫ সালে রাহুল গান্ধী ঘোষণা করেছিলেন তাঁর বার্ষিক আয় হয়েছিল ৮৬ লক্ষ টাকা। অথচ সেই বছরে তাঁর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের সফরে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়। শুধুমাত্র ২০টি বিদেশ সফরেই রাহুল খরচ করেছেন প্রায় ৪০ কোটি টাকা। বাকি ৩৪ সফরে খরচ হয়েছে ২০ কোটি টাকা।’ এতদিন প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলত কংগ্রেস। কোটি কোটি টাকা খরচ থেকে মোদিজি বিদেশেই বেশি থাকেন, এমন প্রচার চলত। আবারও বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ কয়েকদিন আগে তিনিই বিদেশযাত্রা বন্ধ করার আরজি জানিয়েছেন দেশবাসীর কাছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে কংগ্রেস। সেই পর্বেই রাহুল গান্ধীকে আক্রমণের রাস্তা নিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ফরেন এক্সচেঞ্জ ভাউচার, অডিট রেকর্ড প্রকাশ করুন রাহুল গান্ধী। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তাঁর আয়ব্যয়ের ঘোষণার সপক্ষে নথিপত্র দিন। জবাব দিতে দেরি করেনি কংগ্রেসও। তাদের দাবি, আসলে দেশের অর্থনীতি খাদের কিনারায়। বেকারত্ব চরম আকার নিয়েছে। ভারত সরকার দিশাহারা। তাই এখন হঠাৎ রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন করাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেস এমপি জয়রাম রমেশ বলেন, ‘আমরা কিন্তু মোদিজিকে এভাবে ইস্যু থেকে সরে যেতে দেব না। আগে বলুন আপনি হঠাৎ এই সংকটজনক সময়ে কেন সাতদিনের সফরে এতগুলি দেশে যাচ্ছেন? মোদিজি নিজেই বলছেন, বিদেশ সফর বন্ধ করতে হবে, সোনা কেনা যাবে না। অথচ তিনি নিজেই কেন বিদেশ যাচ্ছে? তাও আবার এশিয়া ও ইউরোপের একঝাঁক দেশে? কারণ কী? এসব প্রশ্নের জবাব নেই মোদিজির কাছে। আমরা কিন্তু উনি ফিরে এলেও জবাব চেয়েই যাব। দেশের মানুষের টাকায় এভাবে বিদেশ ভ্রমণ করছেন কেন? এটা কি সামার ভ্যাকেশন হচ্ছে?’ কংগ্রেস বনাম বিজেপির এই বিদেশ সফর বনাম বিদেশ সফরের চাপানউতোরে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। জয়রাম রমেশের সাফ কথা, দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা কী? এটা জনতা জানতে চাইছে। এড়িয়ে গেলে হবে না।’