নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ‘উৎসশ্রী’ পোর্টাল বন্ধ থাকার সময় সরকারি নির্দেশ ছিল, মিউচুয়াল ট্রান্সফার ছাড়া কোনো শিক্ষকের বদলি হবে না।
অভিযোগ, সেই নির্দেশ না মেনে জলপাইগুড়িতে গ্রামের স্কুল ফাঁকা করে শহরে নিয়ে আসা হয়েছে বহু প্রাইমারি শিক্ষককে। এই বদলির পিছনে প্রভাবশালীদের হাত না অন্য কোনবও কারণ রয়েছে,তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। পূর্বতন সরকারের আমলে নিযুক্ত জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানদের পদ যেতেই এনিয়ে সরব হয়েছেন শিক্ষকদের অনেকে। অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেডিকেল গ্রাউন্ডে গ্রাম থেকে শহরের স্কুলে বদলি নিয়েছেন বহু শিক্ষক। অথচ যাচাই করা হয়নি তাঁদের জমা দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট। স্বাস্থ্যদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কোনো মেডিকেল বোর্ডের কাছেও পাঠানো হয়নি সেগুলি। কীসের ভিত্তিতে এই বদলি, তা জানতে চেয়ে জলপাইগুড়িতে আরটিআই করেছেন একাধিক শিক্ষক। যদিও জবাব মেলেনি বলে দাবি তাঁদের।
একই ছবি আলিপুরদুয়ারেও। অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় প্রায় একই কায়দায় জলপাইগুড়ির মতোই গ্রামের স্কুল ছেড়ে আলিপুরদুয়ার শহরে বাড়ির পাশের বিদ্যালয়ে ট্রান্সফার নিয়েছেন বহু শিক্ষক। এবার সেসব খতিয়ে দেখা হবে বলে কড়া বার্তা আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক পরিতোষ দাসের। তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষকরা নিজেদের সুবিধার জন্য গ্রামের স্কুল ছেড়ে শহরে বাড়ির পাশে বদলি নিয়ে এসেছেন। বহু ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে ওই বদলি হয়নি বলে খবর পাচ্ছি। এবার সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। যাঁরা বেআইনিভাবে ট্রান্সফার নিয়ে শহরের স্কুলে এসেছেন, তাঁদের আবার গ্রামের স্কুলে ফিরে যেতে হবে।
শিক্ষক বদলি নিয়ে আরটিআই করেও উত্তর পাননি নেওড়া নদী টিজি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক শংকর মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, এক সরকারি আধিকারিকের স্ত্রী মালবাজারের স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। জলপাইগুড়ি শহরের স্কুলে বদলি হয়েছে তাঁর। অপর এক শিক্ষকের বাড়ি ময়নাগুড়ি, তাঁর স্কুলও ময়নাগুড়িতে। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দিতেই তাঁর জলপাইগুড়ি শহরে বদলি হয়ে যায়। আর এক শিক্ষকের বাড়ি ময়নাগুড়ি, তাঁর স্কুল ছিল মেটেলি সার্কেলের ধূপঝোরায়। তাঁরও বদলি হয়েছে জলপাইগুড়িতে। মৌলানিতে বাড়ি, ধূপঝোরায় স্কুলে পড়ানো এক শিক্ষকেরও বদলি হয় জলপাইগুড়িতে। আবার জলপাইগুড়ি শহরে বাড়ি, পাতকাটা এলাকায় স্কুল-এমন শিক্ষকের বদলি হয়েছে শহরের একটি স্কুলে। অখিল ভারতীয় প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝার তোপ, তৃণমূল জমানায় সারপ্লাস অ্যাডজাস্টমেন্টের নামে জেলায় গ্রামের স্কুল ফাঁকা করে বহু শিক্ষককে শহরে বাড়ির পাশে বদলি করে নিয়ে আসা হয়েছে। কোনো নিয়ম নীতি মানা হয়নি।
আগের সরকারের নির্দেশিকা ছিল, প্রাইমারির ক্ষেত্রে একই সার্কেলের মধ্যে বদলি হবে না। কিন্তু জলপাইগুড়ি শহরের রাজবাড়িপাড়া এলাকার স্কুল থেকে দু’কিমি দূরের স্কুলে তৃণমূলের এক শিক্ষক নেতা বদলি হয়েছেন বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান লৈক্ষ্যমোহন রায়ের দাবি, মেডিকেল গ্রাউন্ডে কিছু শিক্ষকের বদলি হয়েছে। তাঁদের সত্যিই বদলির প্রয়োজন ছিল। তবে এটা ঠিক, ওই শিক্ষকদের জমা দেওয়া ডাক্তারি সার্টিফিকেট মেডিকেল বোর্ডে পাঠানো হয়নি। শিক্ষক বদলির পিছনে বেনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি লৈক্ষ্যমোহনের। এদিকে আলিপুরদুয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মনের দাবি আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই বদলিগুলি হয়েছে। সুতারাং সেসময় কী হয়েছে আমি বলতে পারব না।