রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: তৃণমূলের তিনতলা ঝাঁ চকচকে পার্টি অফিস। চারিদিকে রয়েছে সিসি ক্যামেরা। ভোটের ফল বেরনোর আগে পর্যন্ত লোকজনের ভিড় গম গম করত তৃণমূলের এই পার্টি অফিস। এখানে সর্বদাই শাসক দলের নেতাদের ঘিরে ভিড় করে থাকতেন গ্রামের মাতব্বর, ঠিকাদাররা। কয়েক দিন আগেও দেখা গিয়েছিল সেই ছবি। রাজ্যে পালাবদল হতেই নিমেষে উধাও সেই চেনা ছবি। তৃণমূল জমানার অবসান হতেই দিনহাটার গোসানিমারির তৃণমূলের সেই বিশাল পার্টি অফিসে এখন বাতি জ্বালানোর লোক পর্যন্ত নেই। এখন তালা ঝুলে রয়েছে সিতাই বিধানসভার অন্তর্গত গোসানিমারির তৃণমূলের এই পার্টি অফিসের গেটে।
এলাকার লোকজন বলছেন, এই পার্টি অফিস থেকেই গোসানিমারির দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত সহ আশপাশের কয়েকটি অঞ্চল পরিচালিত হত। এখানে বসেই পারিবারিক বিবাদের সালিশি কিংবা ঠিকাদারদের কাজের বরাত, সবকিছু পরিচালিত হত। সেজন্য সব সময় ভিড় লেগেই থাকত। ভোটের ফল ঘোষণার দিন থেকেই উধাও পুরনো সেই ছবি। গ্রামীণ এলাকায় বিশাল এই তৃণমূলের পার্টি অফিস জনশূন্য। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন ওই এলাকার দাপুটে তৃণমূলের নেতাদের পাশাপাশি পঞ্চায়েত প্রধানরাও। এমনকী সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার জন্য কোনো তৃণমূল নেতাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি ওই এলাকায় গিয়ে।
এলাকার বাসিন্দা বিজেপির জেলা কমিটির সম্পাদক দিবাকর রায় বলেন, ওরা এলাকায় মানুষের উপর কী অত্যাচার করেছে, তোলাবাজি করেছে। গ্রাম পঞ্চায়েতে কী হারে দুর্নীতি করেছে, সেটা তৃণমূলের নেতারা নিজেরা জানে। তাই ভোটের ফল বের হতেই তারা পালিয়ে গিয়েছে। বিজেপির লোকজন তাদের তো কিছু বলেনি। এখন তো তাদের পার্টি অফিসে বাতি জ্বালানোর লোকও নেই।
ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা কমিটির সদস্য আব্দুর রউফ বলেন, তৃণমূলের অঞ্চল থেকে একদম উপরমহল পর্যন্ত দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিল। তাই মানুষ আগেই তাদের কাছ থেকে সরে গিয়েছিল। সরকারে ছিল বলে ভয়ে তাদের কিছু বলার সাহস পাননি। এজন্যই তৃণমূল ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে।