সংবাদদাতা, মানকর: মাঠ থেকে কাদা রাস্তায় উঠে এসেছে। ফলে সাইকেল, বাইক চালাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন চালকরা। পারাজ থেকে শিল্ল্যা, মানকর থেকে অভিরামপুর, গলসি থেকে গোহগ্রাম যাওয়ার রাস্তার অধিকাংশ জায়গায় পড়ে রয়েছে কাদা। হালকা বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা পিছল হয়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাগুলিতে কেন এভাবে কাদা থাকবে? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পথচারীরা। তাঁদের আশঙ্কা অবিলম্বে কাদা না তুললে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। প্রশাসন বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
অমরারগড়, ডাংপাড়া, অভিরামপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ট্রাক্টরে করে চাষিরা সেই ধান পিচ রাস্তা দিয়ে ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাক্টরের চাকায় ওঠা কাদামাটি রাস্তার উপর পড়ছে। কাদার আস্তরণে রাস্তা দেখা যাচ্ছে না। এলাকার এক চাষি বলেন, এখন ধান কাটার সময় চলছে। বড় মেশিনেও ধান কাটা হচ্ছে। ট্রাক্টরে করে সেই ধান মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বড় ধান কাটার মেশিন বা ট্রাক্টর মাঠ থেকে উঠে পিচ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মাঠের কাদামাটি রাস্তার উপর পড়ছে। অমরারগড়ের রাস্তার বাইক আরোহী মহম্মদ রাজা বলেন, রাস্তায় কাদা পড়ে থাকার ফলে যাতায়াতের গতি কমে গিয়েছে। রাস্তার মসৃনতা কমে গিয়েছে। যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। অফিস যেতে দেরি হচ্ছে। সাইকেল আরোহী হেমন্ত বাগদি বলেন, রাস্তায় কাদামাটি পড়ে রয়েছে। এভাবে থাকলে ভালো রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া ভারী বৃষ্টি হলেই কাদা পিছল হয়ে যাবে। তাতে সাইকেল, বাইকের চাকা স্লিপ করবে। এই রাস্তায় প্রচুর বাস, লরি চলে। বড় গাড়ি গেলে কাদার উপর দিয়ে সাইকেল চালাতে ভয় লাগছে। সকলের সুরক্ষার কথা ভেবেই রাস্তা থেকে কাদা তুলে ফেলা জরুরি।
বাইক চালকদের একাংশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে চাষিদের সচেতন করা হোক। রাস্তা থেকে কাদামাটি তোলার জন্য তাঁরা দাবি জানিয়েছেন। গোহগ্রামের রাস্তাতেও একই দৃশ্য দেখা গেল। রাস্তায় কাদা পড়ে রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন গলসি বাইক নিয়ে আসেন বেসরকারি সংস্থার কর্মী জয়দেব পাল। তিনি বলেন, রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত এলাকার মানুষ গলসি, বর্ধমান যাচ্ছেন। বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা এই রাস্তা ধরে নিয়মিত দুর্গাপুর যান। বেশ কয়েকটি বাসও চলে। কিন্তু মাঠের কাদা রাস্তায় জমা হচ্ছে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বাইক চালাতে হচ্ছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। শিল্ল্যার রাস্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পথচারী ইন্দ্রনীল কোনার বলেন, রাস্তায় পিচ দেখা যাচ্ছে না। কাদার জন্য রাস্তায় বাইক চালানো যাচ্ছে না। স্লিপ কাটছে। রাস্তার ধার দিয়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বুদবুদ থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্যার সমাধান করতে ট্রাক্টর ও হারভেস্টার মালিকদের থানায় ডাকা হচ্ছে। ধান কাটার মরশুমে রাস্তায় ব্যাপক কাদা।