• ওয়েলফেয়ার কমিটির মাথায় বসে দাপট, পালাবদলের পর লাইনে পুলিশ অফিসার
    বর্তমান | ১৫ মে ২০২৬
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির এক মাথাকে শুদ্ধিকরণের জন্য লাইনে পাঠানো হল। অনিল দে নামে ওই পুলিশ অফিসার জেলা পুলিশের ডিআইবি শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর। প্রায় ১৫বছর ডিআইবি শাখায় আছেন। ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার থেকে ওই অফিসার পাঁশকুড়া থানার গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্ব সামলাতেন। ডিআইবি শাখার ওই এএসআই জেলা পুলিশের ওয়েলফেয়ার শাখার এক মাথা। ডায়মন্ডহারবার থেকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এই জেলার যোগ দেওয়ার পরই অনিলবাবুর দাপট কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। নানা অভিযোগ আসছিল। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্বতন সরকারের সময়ে পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির মাথায় থেকে কারা তুঘলকি কারবার চালাতেন তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে সংশোধনী প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

    পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, এটা একেবারেই অভ্যন্তরীণ বিষয়। ওই পুলিশ অফিসারের শুদ্ধতা সংশোধনী(অ্যাকুইনিটি কারেক্টিভিটি) প্রক্রিয়া চলছে।

    জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের ম্যানেজ করেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পুলিশকর্মীদের একাংশ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। কাটা তেলের কারবার থেকে অনলাইন লোটো, নানা অনিয়মে পুলিশ অফিসার ও কর্মীদের একাংশের নাম উঠে এসেছে। এমনকী, হেডকোয়ার্টারে দীর্ঘদিন কর্মরত একজন সাব ইন্সপেক্টর নন্দকুমারের তেলকাটিং জগতের এক ‘ডনে’র সঙ্গে পার্টনারশিপে তমলুক শহরে নার্সিংহোম গড়েছেন বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে ওই অফিসার বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। গত ৪মে ভোটের ফল প্রকাশের পর ভূপতিনগর থানার ডাকমাস্টারের(আর্থিক বিষয় দেখভাল) দায়িত্বে থাকা ডিআইবির এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ি ভাঙচুর হয়। ওই থানার বাঘাদাঁড়ি গ্রামের ওই সিভিকের বাড়ি। ঘটনার পর সপরিবারে ঘরছাড়া হন। নানা অজুহাতে জোর করে টাকা তোলার অভিযোগ ছিল। ক্ষিপ্ত মানুষজন পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে বাড়িতে হামলা চালায়।

    জানা গিয়েছে, ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের(ডিআইবি) এএসআই অনিলবাবু পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির একজন মাথা। পূর্বতন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের ঘনিষ্ঠ। ওয়েলফেয়ার কমিটির কর্তা হিসেবে গোটা জেলায় পুলিশের উপর নিয়ন্ত্রণ ছিল। সেইসঙ্গে আরও বেশকিছু অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর সংশোধনী প্রয়োজন রয়েছে বলে পুলিশকর্তারা মনে করছেন। তাই তাঁকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। আপাতত সেখানেই সংশোধনী প্রক্রিয়া চলবে।

    পরিবর্তনের পর সরকারের পুলিশের ভূমিকা কী হবে তানিয়ে ২৫দফার এক নির্দেশিকা পূর্ব মেদিনীপুরের সব থানার আইসি এবং ওসির কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে টাকা চাওয়া, সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও দুর্ব্যবহারের মতো অভিযোগ এলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশকে নিরপেক্ষ হওয়ার নিদান দেওয়া হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের সতর্ক ও সংশোধনী কাজও শুরু হয়েছে। অনিলবাবু বলেন, আমি পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য ছিলাম। তবে বেআইনি কোনো কাজের সঙ্গে কখনও যুক্ত হইনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি লাইনে যোগ দিয়েছি।

        
  • Link to this news (বর্তমান)