• সদ্যোজাত বদলের অভিযোগ, বারাসত মেডিক্যালে শিশুর মৃত্যুতে ফুঁসছে পরিবার
    এই সময় | ১৫ মে ২০২৬
  • এই সময়, বারাসত: সদ্যোজাত শিশু বদলের অভিযোগ ঘিরে বৃহস্পতিবার জোর চাঞ্চল্য ছড়াল বারাসত মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে। পুরো ঘটনায় হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ক্ষোভে ফুঁসছেন দুই পরিবারের সদস্যরা। দাবি উঠছে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের।

    জানা গিয়েছে, আমডাঙার বাসিন্দা শফিকুল শেখের সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে ভুলবশত দেগঙ্গার এক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসবের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছিলেন পুত্রসন্তান হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত কলকাতা শিশু হাসপাতালে রেফার করা হয়। তড়িঘড়ি সেই সদ্যোজাতকে নিয়ে কলকাতায় ছুটে যান দেগঙ্গার ফিরোজের (নাম পরিবর্তিত) পরিবারের সদস্যরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে সৎকারের প্রস্তুতির সময়ে পরিবারের নজরে আসে মৃত শিশুটি কন্যাসন্তান। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তথ্যগত অসঙ্গতি সামনে আসতেই শুরু হয় তীব্র চাঞ্চল্য।

    হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয়। দেগঙ্গার পরিবারের দাবি, যোগাযোগ করা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ‘ভুল হয়েছে। কন্যাসন্তানটি ফিরিয়ে দিন। চুপি চুপি এসে আপনাদের ছেলে নিয়ে যান।’ নিজের সদ্যোজাত কন্যাকে না পেয়ে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন শফিকুল শেখ। তাঁর অভিযোগ, সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও নজরদারি করা হলে শিশুটিকে হয়তো বাঁচানো যেত। পাশাপাশি তাঁদের প্রশ্ন, সদ্যোজাতদের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে এমন গুরুতর ভুল হলো?

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়। গুরুতর গাফিলতি। দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তোলেন তাঁরা।

    বারাসত মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা বলেন, ‘তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’ শফিকুল শেখ বলেন, ‘আমার তো সব শেষ হয়ে গেল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্যই আমি সন্তানহারা হলাম। আর দেগঙ্গার যে পরিবারকে আমার মেয়েকে দেওয়া হয়েছিল তারা ফুটফুটে পুত্রসন্তান পেল।’

  • Link to this news (এই সময়)