লোকসভার চিফ হুইপের পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের সেই দায়িত্ব পেলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দলীয় সাংসদদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তই জানিয়েছেন মমতা। আর তাঁর এই সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হয়ে গেল দলের প্রতি আনুগত্য এবং লড়াইয়ের মনোভাবই এখন তৃণমূলের ফার্স্ট প্রায়োরিটি।
মাথায় রাখতে হবে, তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব তুঙ্গে থাকার সময় দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যে কল্যাণকে ওই পদ থেকে সরানো হয়েছিল। কিন্তু আবার কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়ে দল ফের তাঁকেই দায়িত্বে ফিরিয়ে আনল।
আর কী বার্তা?
নির্বাচনে ভরাডুবির পর কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে বসেছিল দলীয় সাংসদদের বৈঠক। আর সেখানে দলের মধ্যে ঐক্য ও ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন মমতা।
যতদূর খবর, দলের সব সাংসদ উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। পুরো বৈঠকের মূল বিষয় ছিল দলকে নতুন করে চাঙ্গা করার চেষ্টা, কিছুটা মনোবল বাড়ানো ও কিছুটা রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া।
যদিও লোকসভায় দলের নেতা হিসেবে এখনও কাজ করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ডেপুটি লিডার হিসেবে শতাব্দী রায়ও বহাল থাকলেন। তবে পদ হারালেন কাকলি। তাঁর জায়গায় চিফ হুইপ করা হল কল্যাণকে।
২০২৫ সালের অগাস্টে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে প্রকাশ্য বিবাদের জেরে কল্যাণ পদ ছেড়েছিলেন। সেই জায়গায় এসেছিলেন কাকলি। তবে আবার সেই পদে বসলেন কল্যাণ।
কেন এই পরিবর্তন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা নিছক একটা বদল নয়। এর পিছনে রয়েছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।
গত কয়েক মাসে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের অন্যতম আইনি ও রাজনৈতিক মুখ হয়ে উঠেছিলেন। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় আদালতে লড়াই থেকে রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ, সব ক্ষেত্রেই তিনি আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছেন। দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ না জানালেও, একাধিক সাংসদের মতে আদালতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকাই তাঁকে ফের এই পদে ফেরানোর ক্ষেত্রে কাজ করেছে।
বৈঠকের পর এক প্রবীণ সাংসদ বলেন, 'কঠিন সময়ে যারা লড়াই করে, নেতৃত্ব তাদের মূল্য দেয়।'
তৃণমূলের সূত্রে আরও জানা যায়, এই পালাবদলের ক্ষেত্রে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উত্তরপাড়া থেকে ভোটে হেরে যাওয়ার পরও কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ছিলেন। দলের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। অন্যদিকে কাকলির ছেলের কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নেতৃত্বের একাংশ অসন্তুষ্ট ছিল বলে জানা যায়। সেটা দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাংসদদের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা কঠিন নির্বাচন লড়েছি। এসআইআর নিয়ে আমরা খুব পরিশ্রম করেছি। আমরা শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে লড়িনি, বিজেপি আমাদের হারাতে গোটা রাষ্ট্রীয় শক্তিকেই নামিয়েছিল।'
তিনি অভিযোগ করেন, গণনার দিন সিএপিএফ কর্মীরা গণনাকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়। পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকী মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভবানীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় একই ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।