আর জি কর-কাণ্ডে সন্দেহভাজনদের নাম জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে মুখবন্ধ খামে চিঠি মায়ের
আনন্দবাজার | ১৫ মে ২০২৬
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসক-পড়ুয়া মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন আরও অনেকে। এমন অভিযোগ অনেক দিনের। তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার জন্য পানিহাটির সদ্যনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছেন বলে খবর।
গত ৮ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পরে প্রথম বক্তৃতাতেই শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, আর জি করের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত কমিশন গঠিত হবে। সূত্রের খবর, এর পরে সে দিনই শুভেন্দুর কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে একাধিক সন্দেহভাজনের নাম জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা। তিনি বলেন, ‘‘সবাইকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তবেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। কে বা কারা ঘটনার নেপথ্যে ছিল এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা-ও জানা যাবে।’’
কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে বন্দি রয়েছে সঞ্জয় রায়। কিন্তু সে একা নয়, আরও অনেকে ওই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। ওই তরুণীর মৃতদেহ তড়িঘড়ি নিয়ে এসে সৎকার করে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও সন্দেহজনক বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই ওই তিন জনকে সিবিআই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার শিয়ালদহ আদালতে আবেদন করেন নির্যাতিতার বাবা-মা। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেছে বলে খবর। সিবিআই আগামী জুন মাসে এ বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আদালতে জানিয়েছে।
সূত্রের খবর, অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির তত্ত্বাবধানে গঠিত হতে পারে আর জি করের ঘটনার তদন্ত কমিশন। তদন্তে বা জেরার ক্ষেত্রে যাতে কোনও ফাঁক না থাকে, তার জন্য রাখা হতে পারে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত এক ডিজি-কে। যিনি ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে খবর। পুনরায় তদন্ত চালু হওয়ার কথা ঘোষণা হতেই সন্দেহভাজনদের কেউ যাতে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারেন, তার জন্যও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি আবেদন করেছেন বলে জানাচ্ছেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক। সূত্রের আরও খবর, মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে অভীক দে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস, সৌত্রিক রায়ের নাম যেমন রয়েছে, তেমনই নির্যাতিতার সহপাঠী, ভিন্রাজ্যের বাসিন্দা এক চিকিৎসক ও তাঁর বন্ধু, তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী, কয়েক জন সিনিয়র চিকিৎসক, ইতিমধ্যেই নেপালে চলে যাওয়া এক জুনিয়র চিকিৎসক-সহ আরও কয়েক জন ছাত্র নেতা-চিকিৎসকের নাম রয়েছে। জানা যাচ্ছে, চিঠিতে যাঁদের নাম আছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘটনার পরে আর জি করের সেমিনার কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, ঘটনার রাতেও কয়েক জন আর জি করে ছিলেন। এঁদের উপস্থিতি নিয়ে প্রথম থেকে বিতর্ক তৈরি হলেও কাউকেই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
নির্যাতিতার মা বলেন, ‘‘বিধায়ক হলেও আমার জীবন থেকে সব আনন্দ হারিয়ে গিয়েছে। একটাই লক্ষ্য, ন্যায়বিচার পাওয়া। যে অভিযুক্তদের নাম মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েছি, তাঁদের কথা আগেও তদন্তকারীদের জানিয়েছিলাম।’’ আর জি কর-কাণ্ডে নতুন করে তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণায় তাঁরা অনেকটাই আশ্বস্ত হয়েছেন বলেও জানাচ্ছেন নির্যাতিতার বাবা-মা।