আশঙ্কা সত্যি করে দেশজুড়ে বাড়ল পেট্রল এবং ডিজেলের দাম। লিটারপিছু ৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে দাম। শুক্রবার থেকেই কার্যকর হবে নতুন দাম। পাঁচ বিধানসভায় ভোট মিটলেই জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা ছিলই। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই দেশের একাধিক জায়গায় শুরু হয় প্যানিক বাইং। তারপরেই একধাক্কায় তিন টাকা করে বেড়ে গেল পেট্রল এবং ডিজেলের দাম। পাশাপাশি বেড়েছে সিএনজির দামও। এই জোড়া মূল্যবৃদ্ধিতে আমজনতার ভোগান্তি বাড়বে সেকথা বলাই বাহুল্য।
শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে পেট্রল-ডিজেলের নতুন দাম। কলকাতায় পেট্রলের নতুন দাম লিটারপিছু ১০৮.৭৪ টাকা। ডিজেলের দাম লিটারপিছু তিন টাকা বেড়ে ৯৫.১৩তে পৌঁছে গিয়েছে। দিল্লিতে বেড়ে গিয়েছে সিএনজির দামও। প্রতি কেজি ২ টাকা করে বেড়েছে গ্যাসের দাম। একই পরিস্থিতি মুম্বইতেও। কলকাতায় সিএনজির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ টাকা করে।
২০২২ সাল থেকে পেট্রল এবং ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থেকেছে। তবে চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আশঙ্কা ছিল, জ্বালানির দাম বাড়বে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট। একাধিক দেশে বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম। সম্ভবত নির্বাচনের কথা ভেবেই প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর পথটা এড়িয়ে চলা হচ্ছিল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভোট মিটলেই দেশজুড়ে বাড়বে জ্বালানির দাম। সেই আশঙ্কাই অবশেষে সত্যি হল।
শোনা যাচ্ছিল, ৫ রাজ্যের ভোটপর্ব মিটতেই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে দেয় মোদি সরকার। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, “ভারত জ্বালানি, সারের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে পুরোপুরি আমদানি নির্ভরশীল। যেভাবে আমদানির পথ প্রভাবিত হচ্ছে, তাতে এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝাটা মানুষের উপর চাপাটা সময়ের অপেক্ষা।” উল্লেখ্য, অতীতে কেন্দ্র সরকার বা কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাই এভাবে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেনি। উলটে বরাবরই দাম বাড়ার খবর অস্বীকার করে এসেছে সরকার। শেষ পর্যন্ত আমজনতার উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে দিল কেন্দ্র। পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব অন্যান্য বহু ক্ষেত্রেই পড়তে চলেছে। ফলে আমজনতার পকেটে টান পড়বে।