আইএসএলের ডার্বির আগে অদ্ভুত মিল দুই প্রধানে। ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুসোর মতো মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের চাণক্য সের্খিয়ো লোবেরাও চিন্তিত গোলের সুযোগের সদ্ব্যবহারের ব্যর্থতায়।
পঞ্জাব এফসি-র সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল গোলশূন্য ড্র করেছিল। মোহনবাগান বনাম ইন্টার কাশী ম্যাচও শেষ হয়েছিল ০-০। এই দু’টি ম্যাচেই অসংখ্য গোলের সুযোগ নষ্ট করেছিলেন দুই প্রধানের তারকারা। ইস্টবেঙ্গল বনাম পঞ্জাব ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৫১ শতাংশ বল ছিল ইউসেফ এজ়েজ্জারিদের দখলে। গোল লক্ষ্য করে মাত্র দু’টি শট মেরেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারেরা।
মোহনবাগান-কাশী দ্বৈরথে দেখা গিয়েছি একই দৃশ্য। ৬৮ শতাংশ বল ছিল দিমিত্রি পেত্রাতসদের দখলে। কিন্তু তাঁদের মাত্র দু’টি শট ছিল লক্ষ্যে। দুই প্রধানের কোচই জিততে না পারার জন্য অসংখ্য গোলের সুযোগ নষ্ট করাকে দায়ী করেছিলেন। মোহনবাগান শিবিরে স্বস্তির খবর চোট সারিয়ে আপুইয়া বৃহস্পতিবার পুরোদমেই অনুশীলন করেছেন। চোটের কারণে কাশীর বিরুদ্ধে তিনি খেলতে পারেননি। মাঝমাঠে আপুইয়ার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছিল।
ইস্টবেঙ্গল কোচের চিন্তা অবশ্য একটা নয়। তাঁকে ভাবতে হচ্ছে রক্ষণ এবং মাঝমাঠ নিয়েও। জেমি ম্যাকলারেন, জেসন কামিংসদের আটকাতে চার ডিফেন্ডারে ফিরতে পারে ইস্টবেঙ্গল। চোট পেয়ে পুরো মরসুমের জন্য ছিটকে গিয়েছেন সাউল ক্রেসপো। কার্ড সমস্যায় নেই সৌভিক চক্রবর্তী। পরিস্থিতি সামলাতে জিকসন সিংহকে মাঝমাঠে খেলাতেপারেন অস্কার।
১১ ম্যাচ থেকে ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবলের শীর্ষ স্থানে ইস্টবেঙ্গল। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মোহনবাগানের সংগ্রহেও ২২ পয়েন্ট। কিন্তু গোল পার্থক্যে পিছিয়ে দিমিত্রিরা। ডার্বিতে যে দল জিতবে, খেতাবের আরও কাছে তারা পৌঁছে যাবে। দৌড়ে রয়েছে জামশেদপুর এফসি (১২ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট), বেঙ্গালুরু এফসি (১২ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট), এফসি গোয়া (১২ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট), পঞ্জাব এফসি (১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট) এবং মুম্বই সিটি এফসি (১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট)।
এ দিকে আগামী মরসুমেও কোচের পদে অস্কারকে রেখে দেওয়ার জন্য লগ্নিকারী সংস্থাকে অনুরোধ জানালেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। বৃহস্পতিবারে কর্মসমিতি বৈঠকেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নেন। চলতি আইএসএলে কেরল ব্লাস্টার্স ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গলের কিছু কর্তাকে ‘ক্ষতিকারক’ বলেছিলেন অস্কার। তবুও তাঁর প্রতিই আগামী মরসুমে আস্থা রাখছেন ক্লাব কর্তারা।
অবনমন বাঁচানোর লড়াই মহমেডানের: মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে শুক্রবার ঘরের মাঠে পয়েন্ট নষ্ট করলেই অবনমন নিশ্চিত মহমেডান স্পোর্টিংয়ের। খেতাবি দৌড়ে অবশ্য থাকবেন লালিয়ানজ়ুয়ালা ছাংতেরা। মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু বলেছেন, “শেষ দুই ম্যাচের অন্তত একটিতে জয় তুলে নেওয়াই লক্ষ্য। শেষ বিন্দু পর্যন্ত অবনমন বাঁচানোর জন্য লড়াই করব।” চোটের জন্য মহমেডান পাবে না আদিঙ্গা এবং জ়োহারলিয়ানাকে।