• মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিক! সফল রামকৃষ্ণ মিশনের পড়ুয়ারা, কী ভাবে পড়াশোনা করেন তাঁরা?
    আনন্দবাজার | ১৫ মে ২০২৬
  • মাধ্যমিক হোক বা উচ্চ মাধ্যমিক— রাজ্য বোর্ডের পরীক্ষায় সাফল্যের উজ্জ্বল পালকগুলি যুক্ত হচ্ছে রামকৃষ্ণ মিশনের মুকুটে। ২০২৬ মাধ্যমিকে প্রথম দশের মেধাতালিকায় নাম রয়েছে মোট ১৩১ পড়ুয়ার। তাদের মধ্যে ১৮ জন কোনও না কোনও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র।

    রামকৃষ্ণ মিশনের সাফল্যের ধারা অব্যাহত উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও। ১৪ মে প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক মেধাতালিকায় নাম রয়েছে মোট ৬৪ জনের। তার মধ্যে ৩৫ জন পড়ুয়াই রাজ্যের দু’টি রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। বাকিদের মধ্যে নাম রয়েছে রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুলের ছাত্রী অদ্রিজা গণের। উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় ৪৮৭ নম্বর পেয়ে দশম হয়েছেন অদ্রিজা।

    বড় পরীক্ষায় এমন সাফল্যের নেপথ্যে কোন রহস্য, জানালেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধানশিক্ষক স্বামী ইষ্টেশানন্দ। তিনি বলেছেন, ‘‘এই বছর পড়ুয়ারা উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য অনেকটাই কম সময় পেয়েছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের কারণে এগিয়ে দেওয়া হয়েছিল পরীক্ষা। অন্য দিকে জেইই মেন-ও ছিল। কম সময়ে ওরা প্রস্তুতি নিয়েছে।” তাঁর দাবি, শুধু পড়াশোনায় ভাল হওয়াই নয়, ভাল মানুষ হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। ইষ্টেশানন্দ জানিয়েছেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও যাতে জীবন থেকে বাদ না পড়ে যায় সেই দিকেও বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া হয়। মাধ্যমিকে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে ১৩৪ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। তার মধ্যে ১২৯ জন পড়ুয়াই ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে।

    মাধ্যমিকে রামকৃষ্ণ মিশনের ফলাফল

    তৃতীয় হয়েছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের পড়ুয়া সৌর জানা। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫। পঞ্চম হয়েছে একই রামকৃষ্ণ মিশন থেকে স্যমন্তক কুণ্ডু। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন বয়েজ় হোমের আদৃত গোস্বামী। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯২। সপ্তমে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন থেকেই অনীশ দাস। ও পেয়েছে ৬৯১ নম্বর। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনও রয়েছে সপ্তম স্থানে। ৬৯১ নম্বর নিয়ে সৌম্যজ্যোতি দাস। পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের নামও রয়েছে সপ্তমে। ৬৯১ নম্বর নিয়ে অভিনব প্রতিহার রয়েছে মেধাতালিকায়। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে অষ্টম হয়েছে জীবিতেশ কয়াল এবং সৌম্যকান্তি কুল্লা এবং কামারপুকুর রামকৃষ্ণমিশন থেকে সৌমাল্য ঘোষ। তাদের প্রাপ্ত নম্বর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০। নবম হয়েছে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন বয়েজ় হোমের সূর্যস্নাত বর্মন, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের আশিক চক্রবর্তী, কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় থেকে সম্বর্ত বেতাল, পুরুলিয়া রামকৃষ্ণমিশন বিদ্যাপীঠ থেকে বোধিসত্ত্ব ঘোষ এবং সৌম্য সরকার। সকলের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন বয়েজ় হোমের সৃজন দে সরকার, আসানসোলের রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুলের অভিষেক দাস, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের অনুরাগ মণ্ডল, পুরুলিয়া রামকৃষ্ণমিশন বিদ্যাপীঠের দেব পাল, অর্কপ্রভ চক্রবর্তী, আদিত্য রাজ, শিভম আনন্দ দশম হয়েছে। সকলের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮।

    উচ্চ মাধ্যমিকে রামকৃষ্ণ মিশনের ফলাফল

    নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় (আবাসিক) থেকে মেধাতালিকায় নাম রয়েছে ১৮ জনের। তার মধ্যে রয়েছেন প্রথম আদৃত পাল (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬)। ঋতব্রত নাথ এবং ঐতিহ্য পাছাল দু’জনেই দ্বিতীয় হয়েছেন। ওঁদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৫। তৃতীয় শুভায়ন মণ্ডল (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৪)। চতুর্থ অর্কদ্যুতি ধর (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৩)। পঞ্চম প্রিয়াংশু মুখোপাধ্যায় এবং অলেখ্য মাইতি (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯২)। ষষ্ঠ প্রত্যুষ মণ্ডল, শুভদীপ দিন্দা, পল্লব কুমার ভাওয়াল এবং অনিমেষ মুখোপাধ্যায় (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯১)। অষ্টম অরিঘ্ন সরকার এবং ফারহান আলি (প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯)। নবম সোহম বেজ (প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮)। দশমে নাম রয়েছে সোহম ভৌমিক, সৃজন পাল, সাগ্নিক ঘটক, মেঘান অধিকারীর (প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭)।

    মেধাতালিকার দ্বিতীয় থেকে দশমে নাম রয়েছে পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের। ৬৪ জনের মধ্যে ১৭ জন পড়ুয়ার নাম রয়েছে। দ্বিতীয় হয়েছেন, জিষ্ণু কুন্ডু (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৫)। তৃতীয় দেবপ্রিয় মাজি, তন্ময় মণ্ডল এবং প্রীতম বল্লভ (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৪)। ত্রিদেব চক্রবর্তী, সৃজন পরিচ্ছা এবং সৌমিক দত্ত (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯২)। ষষ্ঠ হয়েছেন শুভদীপ অধিকারী, মণিদীপ মাহাতো, সৌম্যদীপ খান এবং সৌমাল্য রুদ্র (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯১)। সপ্তম হয়েছেন সৌম্যদীপ ঘোষ (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯০)। অষ্টম হয়েছেন আদর্শ মণ্ডল (প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯)। নবম অরিত্র দুয়ারি, ময়ূখ পাল এবং আদিত্য নারায়ণ জানা (প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮)। দশম হয়েছেন অম্লান রায় (প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭)।

    এ ছাড়াও মালদহের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের অরিত্র সাহা অষ্টম হয়েছেন। ওঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯। বরানগর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম হাই স্কুলের ছাত্র সমৃদ্ধ পাল দশম হয়েছেন (প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭)।

    মাধ্যমিকে ১৩১ জনের মধ্যে ১৮ জন এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৬৪ জনের মধ্যে ৩৭ জন পড়ুয়া মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। ওঁদের মধ্যে কেউ স্বপ্ন দেখছেন চিকিৎসক হওয়ার কেউ আবার ইঞ্জিনিয়ার। তবে অনেকেই নিজস্ব স্টার্ট-আপ খোলার স্বপ্নও দেখছেন।

    উচ্চ মাধ্যমিকের ভাল ফল নিয়ে পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক স্বামী জ্ঞানরূপা নন্দ বলেন, ‘‘সব সময়ই ছাত্রদের সার্বিক বিকাশের উপর নজর দেওয়া হয়। ছাত্ররা স্কুলের বাইরে যাওয়ার অবকাশ পায় না। তাই তাঁদের পড়াশোনার দিকেও যেমন বিশেষ জোর দেওয়া হয় তেমনই মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের উপরও নজর দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্যও আলাদা ভাবে ক্লাস করানো হয় ছাত্রদের।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)