শিল্পায়নেই জোর, ছ’মাসে কম্প্রিহেনসিভ ল্যান্ড পলিসির সিদ্ধান্ত বিজেপি সরকারের, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের দিন পরিবর্তনের ভাবনা
বর্তমান | ১৫ মে ২০২৬
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: আগামী ছ’মাসের মধ্যে বঙ্গে ‘কম্প্রিহেনসিভ ল্যান্ড পলিসি’ তৈরি করা হবে। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। এক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হবে উত্তরবঙ্গের উপর। বিগত ১৫ বছরের খরা কাটিয়ে আপাতত বাংলায় শিল্পায়নকে পাখির চোখ করছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একাধিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং উৎপাদন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত ইউনিট রাজ্যে শিল্প গড়তে চাইছে বলে দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই প্রেক্ষাপটেই জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠকে এসংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত দিশা মিলতে পারে।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘শিল্পায়ন নিয়ে বাংলার সরকার একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ করতে চলেছে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে কম্প্রিহেনসিভ ল্যান্ড পলিসি তৈরি হয়ে যাওয়া উচিত। সেখানে বিশেষ গুরুত্ব পাবে উত্তরবঙ্গ। ছ’মাসের মধ্যে উত্তরবঙ্গের মানুষ বুঝতে পারবে, বাংলায় সরকার পরিবর্তন হয়েছে। উত্তরবঙ্গের কোনো মানুষকে আর বঞ্চনার অভিযোগে সরব হতে হবে না।’ একদিন আগেই দিল্লিতে শমীকবাবু দাবি করেছিলেন, সিঙ্গুরে এবার ইমিটেশন গয়নার হাব তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে রাজ্য সরকার। তখনই স্পষ্ট হয়েছিল, বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই শিল্পায়নে জোর দিতে চলেছে বিজেপি সরকার। কারণ শিল্পায়নের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে রয়েছে কর্মসংস্থানের বিষয়টি। সেই ব্যাপারেও নজর দিতে সচেষ্ট হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দিল্লিতে শমীকবাবু দাবি করেন, ইতিমধ্যে একাধিক শিল্প সংস্থা বাংলায় বিনিয়োগ করতে উৎসাহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বেশি রয়েছে আইটি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটগুলি। সিলিকন ভ্যালি থেকেও প্রস্তাব এসেছে বলে দাবি করেছে রাজ্যের শাসকদল। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই পদ্মশিবির বুঝিয়েছে, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হবে। পাশাপাশি ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবসে’র দিনক্ষণ পরিবর্তনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে রাজ্য বিজেপির অন্দরে। সূত্রের খবর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালনের কথা ভাবা হচ্ছে।