• ‘টুটুদা ছিলেন যে কোনও সমস্যায় সমাধানের চাবি’, স্মৃতি রোমন্থনে চিমা
    প্রতিদিন | ১৫ মে ২০২৬
  • চিমা ওকোরি: আমি এই মুহূর্তে বোল্টনে। ফলে শোনা মাত্র যে টুটু বোসের শেষ যাত্রায় হাজির হয়ে যাব, এই উপায় নেই। খবরটা আসা মাত্র, জাস্ট চুপ করে গিয়েছি। ওরকম কর্মচঞ্চল একজন মানুষ এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন ভাবতেই পারছি না। অনেকদিন ভারত ছেড়ে আমি ইংল্যান্ডে রয়েছি। ফলে টুটুদা শেষ দিকে অসুস্থ ছিলেন কি না জানি না। অসুস্থতার জন্য টুটুদা ঘরবন্দি, এরকমটা ভাবতেই পারি না।

    উনি আমাকে প্রথম বিদেশি হিসেবে মোহনবাগানে সই করিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে সই প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করতে মন চাইছে না। তাতে আমার কী হয়েছিল, সেই সবের থেকেও আমার কাছে এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ টুটুদা। যাঁর বাড়িতে, পরিবারে আমার অনায়াস যাতায়াত ছিল।

    আচ্ছা টুটুদা আমার ঠিক কী ছিলেন? বাবা? দাদা? ভাই? যাই হোক না কেন, এটুকু জানতাম, ‘বস’ হয়েও কিছুতেই ‘বস’ ছিলেন না। আমি তো টুটুদা বলেই ডাকতাম। বলা যায়, কলকাতায় আমার অভিভাবক ছিলেন। যাঁকে যে কোনও সমস্যায় সব কিছু খুলে বলা যায়। টুটুদা ছিলেন যে কোনও সমস্যায় সমাধানের চাবি।

    এরকমটা নয় যে, আমি বুঝতে পারতাম না, প্রথম বিদেশি হিসেবে আমাকে সই করিয়ে টুটুদা ক্লাবের বহু পুরনো নিয়মের বদল ঘটিয়েছেন। কিন্তু আমি যাতে কোনওরকম চাপ বোধ না করি, সব সময় আমাকে সেভাবেই আগলে রাখতেন। হাসি, ঠাট্টা, সব সময় মজার মজার কথা বলতেন। দারুণ ইন্টারেস্টিং মানুষ ছিলেন টুটুদা। কীভাবে আমাকে সই করানো হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ এই মুহূর্তে বলতে আর ইচ্ছে করছে না। বরং এই সময়টা টুটুদার জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনার সময়। যেখানেই থাকুন এভাবেই আনন্দে, মজায় থাকুন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)